বকুল খান স্পেন থেকে: মাদ্রিদে বাংলাদেশী সবজি পরীক্ষামূলক চাষ করে সফল আল আমিন। মাদ্রিদের শহরতলি টোলেডোর টেম্বলেকে গ্রামে প্রায় দশ হাজার মিটার আবাদি জমি ভাড়া নিয়ে দেশি লাউ, লাল শাক, মিষ্টি কুমড়া, কচুমুকি এবং স্পেনিশ কালাবাচীন ফলিয়ে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন তরুণ ব্যবসায়ী আল আমিন। ব্যক্তি জীবনে ফলমূল ও সবজি ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। মাদ্রিদ থেকে ৯৪ কিলোমিটার দুরে সবুজের মাঝে প্রিয় জম্ম ভূমি বাংলাদেশকে খুঁজে ফিরেন আল আমিন। দেশের সবুজ ও সবজির ছুঁয়া কিছুটা হলেও মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মাইল দূরে যে কাউকে আত্মতৃপ্তি দিতে পারে।
সূত্রে জানা যায়, মাদ্রিদ রয়েছে তাঁর ও শাহ আলমের নিজস্ব মালিককানাধীন ৫০টির বেশিও দোকান । ইউরোপের বৃহত্তম দেশ স্পেন অন্যতম কৃষি প্রধান দেশ। রয়েছে আবাদি ও অনাবাদি মাইলের পর মাইল কৃষি জমি। মুরসিয়া, মালাগা সিটিতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী।

বাংলাদেশী সবজি চাষী আল আমিন
এ ভাবনা থেকেই আল আমিন সিদ্ধান্ত নেন মাদ্রিদের আশপাশে খালি জমিতে সবজি চাষের। কেননা মাদ্রিদে অনেকে সময় কাঁচা মরিচ ও ধনিয়া পাতা এবং সিম, শাক এর তীব্র সংকট দেখা দেয়, অনেকে দেশি সবজি জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। দেশে ফিরলে অথবা কেউ দেশ থেকে আসলে কিছুটা পাওয়া যায়। তবে তা খুই যৎসামান্য। এ ভাবনা থেকেই মূলত আবাদি জমি ভাড়া নিয়ে প্রাথমিকভাবে শখ করে দেশীয় সবজি চাষ করেন। গত ২১ অক্টোবর মাদ্রিদ কমিউনিটির সকলকে নিয়ে কৃষি ক্ষেত ঘুরাতে নিয়ে আসেন।
নিজে সবজি ফলনের আনন্দে আল আমিন বলেন. এখানে সার বা পানির তেমন সমস্যা নেই। এখানের মাটি খুবই উপযোগী সবজি ফলনের। তাই বাংলাদেশী যে কেউ ইচ্ছে করলে এ পেশায় আসতে পারেন। এতে দেশীয় সবজির যেমন স্বাদ নেয়া সম্ভব তেমনি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, স্পেনে সবজি চাষ উজ্জ্বল সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন হতে পারে। পেতে পারেন বিদেশের বুকে দেশের মজাদার খাবার। স্পেনে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস। বাংলাদেশী সবজির চাহিদা মিটাতে ইংল্যান্ড থেকে চড়া দামে কিনে বিক্রি করতে হয় স্পেনে। অনেকে সময় দেরিতে পৌঁছানোর কারণে এ পণ্যের তাজা স্বাদ মিলে না । এ দেশে কৃষি ক্ষেত্রেও রয়েছে সরকারিভাবে পাওয়া যায় ব্যাপক সুযোগ সুবিধা।
এ ব্যাপারে কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কামরুজ্জামান সুন্দর, লুৎফুর রহমান, সোহেল ভূঁইয়া, এস এম মাসুদ, খলিলুর রহমান, মো ইকবাল ও মো. শাহ আলম এ উদ্যোগের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারা মনে করেন ব্যক্তিগত চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবেও বাজার জাত করার রয়েছে সুবর্ন সুযোগ।