মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট নদীবন্দরে স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতাসহ দু’ শতাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে জেলার টেকেরহাট নদীবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতাদের হাতে ফুলে তোঁড়া দিয়ে নতুন দলে যোগ দেন তারা।
যোগদানকারীরা হলেন- খালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টেকেরহাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল হাওলাদার এবং রাজৈর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রহিম হাওলাদারসহ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির দুই শতাধিক সদস্য।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রাজৈর উপজেলা এনসিপি প্রতিনিধি মহসিন ফকির, জাবের হাওলাদার, আজগর শেখ, তরিকুল ইসলাম, মৎস্য ব্যবসায়ী বাচ্চু বাঘা, স্থানীয় রাজীব বাঘা, মনির ফকিরসহ উপজেলা এনসিপির নেতাকর্মী।
যোগ দেয়ার পরে আমিনুল হাওলাদার বলেন, আমি গত বছর ৫ আগস্টের আগেই আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেছি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার দুই ছেলে আন্দোলন করেছে। আমি তাতে সমর্থন করেছি। এনসিপি দল গঠনের পর থেকে দেখছি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে। দেশকে ভালো একটা পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। তাদের এই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি এনসিপিতে যোগ দিয়েছি। মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির যত নেতাকর্মী ও সদস্য আছেন, সবাইকে নিয়ে এনসিপির একটা দুর্গ গড়ে তুলব এবং তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজৈর উপজেলার প্রতিনিধি মহাসিন ফকির জানান, তাদের সততা ও আদর্শ দেখে আমিনুল হাওলাদার, রাহিম হাওলাদারসহ টেকেরহাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সবাই এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। অল্প দিনের মধ্যে আরও অনেকেই যোগ দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজৈর উপজেলার আরেক প্রতিনিধি জাবের হাওলাদার জানান, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হয়েছে ভারতের গোলামি করার জন্য নয়। এ দেশে আর যেন কোনো ফ্যাসিস্ট তৈরি না হয়, আর কেউ যেন একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে না পারে, জুলুম-নির্যাতন, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করতে না পারে, সেজন্য তারা ছাত্র-জনতা, আলেম-ওলামাকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রতিহত করবেন। তারা বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে চান।