শিরোনাম :
প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়ায় ছাড় উদ্বোধন, আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ চালুর ঘোষণা লিবিয়া থেকে ১৭০ বাংলাদেশি ফিরেছেন যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড আবেদনে নতুন নিয়ম, নিজ দেশ থেকেই করতে হবে আবেদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আইসিআরসি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হামে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল, একদিনে প্রাণ গেল ১৬ জনের আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মান নাগরিকত্বে নতুন রেকর্ড, বাড়ছে অভিবাসীদের আগ্রহ জার্মানিতে বাংলাদেশিদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের নতুন সুযোগ দেড় মাসে প্রাণ গেল ৫১২ শিশুর, নতুন উপসর্গ প্রায় দুই হাজারের শিশু ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ব্যর্থতা ঢাকতেই ‘হ্যাঁ’ ভোটে জিততে মরিয়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

মানুষের প্রত্যাশা পূরণের ব্যর্থতা ঢাকতে অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকারের নিরপেক্ষতা ভুলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে নামানো হয়েছে জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের সমস্ত দপ্তরকে। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গুলিকেও বাধ্য করা হয়েছে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে উপদেষ্টারা সকলেই সরকারি অর্থে যেভাবে প্রচার চালাচ্ছেন তাতে করে মনে হতেই পারে বাংলাদেশের এখন গণভোটে জয়লাভ করাই একমাত্র লক্ষ্য। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারও গণভোটের প্রচারের ঘণঘটায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট। এই গণভোটে সংস্কারের পক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে মরিয়া ড. ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা। গণভোটে জয়লাভ করলেও ভবিষ্যতে সংস্কার প্রক্রিয়া যে অপরিবর্তিত থাকবে তেমন কোনও গ্যারান্টি নেই। অতীতে বহু সংস্কারই নির্বাচিত সরকার নিজেদের পছন্দ মতো পরিবর্তন করেছে। তাই গণভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এই উন্মাদনায় পা দিতে নারাজ বিএনপি। বেশ সতর্ক তাঁরা। বিএনপি মনে করে, সংস্কারের প্রশ্নে জোর করে গণভোট চাপিয়ে দিলে তাতে বিভাজন বাড়াতে পারে। তাই তাঁরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোনও পক্ষ নিয়েই আপাতত প্রচারে নেই। তাঁদের লক্ষ্য গণভোট নয়, জাতীয় সংসদের নির্বাচনে জয়লাভ। তবে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সংস্কারের পক্ষ। অতএব আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে’।

সংস্কারের ক্ষেত্রে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে এই গণভোট হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ফের যাতে ফ্যাসিবাদের উদয় না হয় তারজন্যই এই বন্দোবস্ত। এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব চারটি।
১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রস্তাবনা নিয়ে প্রথম থেকেই মতবিরোধ রয়েছে। জুলাই সনদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। সংস্কারের প্রশ্নে বাংলাদেশে এর আগেও অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেগুলি বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই এবার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশে ইতিবাচক মৌলিক সংস্কারগুলো কেউ কোনো দিন নস্যাৎ করার চেষ্টা করবে না এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ফ্যাসিজম বা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না, নেই সেই ভরসাও।

জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘বিএনপি রাজনৈতিক মতৈক্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই সনদের বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সেই সনদের ব্যত্যয় ঘটিয়ে একতরফাভাবে যে আদেশ দেয়া হয়েছে, সেটি আমরা সমর্থন করতে পারি না।’ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কমিশনের প্রস্তাব একপেশে এবং জোরপূর্বক জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে। জাতীয় ঐক্য কমিশনের বৈঠকে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট অংশ নেয়। আলোচনায় আসে ১৬৬টি সংস্কার প্রস্তাব। এর মধ্যে ৮২টি প্রস্তাব রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তিতে বাদ পড়ে। শেষ পর্যন্ত ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরমধ্যে ৬১টিতেই কোনো না কোনো দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে।

সেইসব উপেক্ষা করে এখন অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে মেতেছে। ড. ইউনূস নিজে প্রচার চালাচ্ছেন। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলছেন, সরকার রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকলেও সংস্কারের পক্ষে প্রচারণা চালানোর দায়িত্ব রয়েছে। তাই সমস্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সকলকে প্রচারে নামানো হয়েছে। এমনকী, জুমবার খুতবায় আলোচনা, পোশাক কারখানার সামনে ব্যানার টাঙানোর নির্দেশও দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের লোকজনও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদের মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে প্রচারণা চালানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
তবে, আইন বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, নির্বাচনের সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো নিরপেক্ষ। ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স(ফিমা)’ র সাবেক প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান মনে করছেন, ‘সংস্কারের অংশ হিসেবে গণভোটের একটি পক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি মনে করি না তাতে জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে’। গণভোট আইন, ১৯৯১-এর ২০ ধারা স্পষ্টভাবে বলছে—নিরপেক্ষেতা, সততা ও ন্যায়নিষ্ঠতার সাথে গণভোট অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে।

বিতর্ক এড়াতে বিএনপি গণভোটকে তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তবে ‘না’ ভোটের প্রচার কিন্তু থেমে নেই। ‘না’ ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন ইসলামি ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও চাঁদপুর-৫ হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের প্রার্থী সৈয়দ বাহাদুর শাহ্ মোজাদ্দেদী। তাঁর মতে, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের একটি রাজনৈতিক দল। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হলে ৭১ এর সংবিধান পাল্টে যাবে। তা হতে দেওয়া যাবে না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রস্তাবিত সংস্কার ও গণভোটকে সংবিধানবিরোধী ও অবাস্তব হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে দেশ অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। সেই কারণেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের জয়কেই নিজেদের সাফল্য হিসাবে দেখাতে চাইছেন ড. ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টারা। সার্বিক ব্যর্থতার হাত ধরে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া আত্মমর্যাদা ফিরে পেতে খরকুটোর মতো ‘হ্যাঁ’ ভোটকে আগলে ধরেছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD