ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে আজ বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন ট্যারিফ কাঠামো। নতুন হার অনুযায়ী, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে আগের তুলনায় গড়ে ৪১ শতাংশ বেশি চার্জ দিতে হবে ব্যবহারকারীদের।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নতুন ট্যারিফ কার্যকরের বিষয়ে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। আজ থেকে সেটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।”
অন্যদিকে, ট্যারিফ কার্যকর না করার আহ্বান জানিয়ে মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম পোর্ট ইউজার্স ফোরাম (সিপিইউএফ)। চিঠিতে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়—
১️⃣ ট্যারিফ বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত রেখে পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া,
২️⃣ শিপিং এজেন্ট, আমদানি-রপ্তানিকারক, জাহাজ মালিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক কাঠামো তৈরি করা,
৩️⃣ বন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনায় সেবা-ভিত্তিক এবং অলাভজনক মনোভাব বজায় রাখা।
ফোরামের আহ্বায়ক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর সই করা চিঠিতে বলা হয়, ট্যারিফ বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে যেতে পারে এবং চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিকভাবে “ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত” গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক ও ফোরামের সদস্য আমিরুল হক জানান, “প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। তিনি দেশে ফিরে এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা করছি।”
চিঠিতে আরও বলা হয়, নতুন ট্যারিফে জাহাজ ও লজিস্টিকস সেবার ওপর গড় চার্জ ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি খাতের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার হ্যান্ডলিং, স্টোরেজ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, জ্বালানি, গম, সার ও শিল্পের কাঁচামালের আমদানি খরচও বাড়বে, যা দেশের মূল্যস্ফীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এতে আন্তর্জাতিক শিপিং কমিউনিটির কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।