বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী। প্রবাসের মাটিতে বসেও এ যেন ছিল বাংলাদেশেরই এক টুকরো দৃশ্যপট।
জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছিলেন এই মিলনমেলায়। বিকেল হতেই অনুষ্ঠানস্থল অতিথিদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। হাসি-আড্ডা, কুশল বিনিময় আর মিষ্টি স্মৃতিচারণায় মুহূর্তেই দূর হয়ে যায় প্রবাসজীবনের নিঃসঙ্গতা। সবার চোখেমুখে যেন ভেসে উঠছিল শেকড়ের টান, মাটির গন্ধ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল করিম পল, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন ভূইয়া ।তাঁরা প্রবাস জীবনের চ্যালেঞ্জের মাঝেও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বের কথা বলেন। একইসঙ্গে, এ ধরনের মিলনমেলা আয়োজনের জন্য সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের আশ্বাস দেন।

এরপর শুরু হয় বহুপ্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সুরের জাদুতে সবাইকে মাতিয়ে তোলেন সঙ্গীতশিল্পী রাহুল, তাপসী রায় ও পল্লবী রায়। তাঁদের কণ্ঠে বাংলার মাটি, মানুষের গল্প আর প্রবাসের বেদনা নতুন রঙে ধরা দেয়। নৃত্যশিল্পী শ্রেয়ার নৃত্য পরিবেশনায় মিলনমেলার মঞ্চ যেন হয়ে ওঠে এক অনন্য নৃত্যনন্দন ক্ষেত্র। অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করেন এম এ খালেদ, যার প্রাণবন্ত কথাবার্তা পুরো আয়োজনকে প্রাণময় করে তোলে।

সন্ধ্যার পরপরই শুরু হয় নৈশভোজের আয়োজন। টেবিলে টেবিলে সাজানো ছিল নানান রকমের বাঙালি খাবার। সুগন্ধে ভরিয়ে তোলে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। হাসি-আড্ডা, গল্প আর স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের।
ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রবাসজীবনে এমন আয়োজন শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং প্রবাসীদের মধ্যে বন্ধনের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় করে তোলে। এ যেন প্রবাসের বুকে বাংলাদেশেরই এক জীবন্ত ছোঁয়া।