ফ্রাঙ্কফুর্টে রোডেনবাগ এর হোটেল প্রিন্সসেস ১৮-১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশি প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক (BPN-e.V.) ২০২৫ সামিট, যা শুধু একটি সম্মেলন নয়, বরং জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রফেশনাল ও শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার, নেটওয়ার্কিং এবং পেশাগত উন্নয়নের নতুন পথ উন্মোচন করেছে। জার্মানির ১৭টি শহর থেকে আগত দক্ষ প্রফেশনালরা দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন।
সামিটের প্রধান অতিথি ছিলেন তানভির কবির, বাংলাদেশ দূতাবাস, বার্লিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মি. সঞ্জীব বর্মন (প্রধান, প্রোগ্রামস ফর এশিয়া, ডয়চে ভেলে) এবং মি. মাহমুদুল হাসান সোহাগ (সিইও ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা, রকমারি ডট কম বাংলাদেশ)। অতিথিরা নতুন প্রজন্মের প্রফেশনালদের জন্য পেশাগত সুযোগ এবং শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সামিটে বিভিন্ন মূল উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। SCCG Career Lab Germany-এর সহযোগিতায় চালু করা হয়েছে বাংলাদেশি জব পোর্টাল, যা দক্ষ প্রফেশনালদের নতুন চাকরি, ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করবে। এছাড়া আউসবিল্ডুং (Ausbildung) ও স্টাডি (Studien) প্রোগ্রাম, বাংলা ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এবং জার্মান ভাষার স্কুল শিক্ষার্থী ও নতুন আগতদের জন্য দক্ষতা অর্জনকে সহজলভ্য করবে। সামিটে আরও ঘোষণা করা হয়েছে কমিউনিটি কেয়ার উইং, যা মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিশ্চিত করবে, এবং স্কলারশিপ ফান্ড, যা আর্থিক বা একাডেমিক চ্যালেঞ্জে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবে।
উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল বাংলাদেশ এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ প্রদান, যা জার্মানিতে বসবাসরত প্রফেশনালদের পেশাগত সাফল্য ও উদ্ভাবন অবদান স্বীকৃত করে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ড. কারমেন ব্র্যান্ড্ট, সাংবাদিক মি. আরাফাতুল ইসলাম, মি. দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এবং মি. ফজলে আলী খন্দকার।
সামিটের সূচনা সম্ভব হয়েছিল মো. হাসনাইন ও রবিউল এইচ. চৌধুরী-এর স্বপ্ন ও পরিকল্পনার মাধ্যমে, যারা ২০২৪ সালে একটি পেশাগত প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেন। দুইদিনব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা নতুন সুযোগ, শিক্ষা ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পান।

সামিটে গুণীজনদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ড. কারমেন ব্র্যান্ড্ট, সাংবাদিক মি. আরাফাতুল ইসলাম, মি. দেওয়ান শফিকুল ইসলাম এবং মি. ফজলে আলী খন্দকার।
সামিট আয়োজকরা- কে এম সাজ্জাদ (হামবুর্গ), হাসনাত রিয়াদ (ফ্র্যাংকফুর্ট) এবং সামিউর রহমান (ডুইসবার্গ) অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই নেটওয়ার্কে যোগ দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগি করতে এবং জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রফেশনালদের জন্য শক্তিশালী পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশি প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক ২০২৫ সামিট প্রমাণ করে, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশি প্রফেশনালদের জন্য নতুন সম্ভাবনার সূচনা, যেখানে পেশাগত উন্নয়ন, নেটওয়ার্কিং ও সম্প্রদায়িক সহায়তার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।