বাংলা সাহিত্যের দুই মহীরুহ-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম। একজন প্রেম, প্রকৃতি ও চেতনার কবি, অন্যজন দ্রোহ ও মানবতার অগ্নিগান। এই দুই মহান প্রতিভার জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে আগামী ২৭ জুন ২০২৫ তারিখে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের সালবাউ নীড হলে আয়োজন করা হচ্ছে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার “রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব”, যার আয়োজক জার্মান বাংলা চ্যানেল।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন ফ্রাঙ্কফুর্টের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও জার্মান বাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক ফাতেমা রহমান রুমা।
সঙ্গীতের সুরে জীবন্ত হবে বাংলা সংস্কৃতি
এই অনন্য অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন দুই খ্যাতিমান শিল্পী- আঁখি হালদার ও তাপসী রায়। তবলায় সঙ্গত করবেন ফ্রান্স থেকে আগত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তবলা বাদক অনুভব চ্যাটার্জী।

আঁখি হালদার: ক্রীড়া থেকে কণ্ঠের কাব্যে
ক্রীড়াক্ষেত্রের জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আন্তর্জাতিক মুখ-এই পরিচয়ে উজ্জ্বল আঁখি হালদার। তার সংগীতচর্চার শিকড় মায়ের কাছ থেকে শুরু হয়ে বিস্তৃত হয়েছে ওস্তাদ আবুল কালাম আজাদ খান, পীযুষ বড়ুয়া, এবং বিশেষভাবে ডঃ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার মতো কিংবদন্তি শিল্পীর কাছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.ফিল করছেন সংগীতে।
দেশ-বিদেশের বহু মঞ্চে গান গেয়েছেন আঁখি-ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ডসহ নানা দেশে বাংলার গানকে পৌঁছে দিয়েছেন গর্বিত কণ্ঠে।

তাপসী রায় :বাংলার দুই পারে সুরের সাধনা
শিল্পী তাপসী রায় ছোটবেলা থেকেই নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সংগীতে দীক্ষা নেন। প্রথম সংগীতগুরু তার মা স্নেহলতা কর এবং পরে গুরু শ্রী যোগেন্দ্র দাশ ও ওপার বাংলার শ্রী স্বপন ভট্টাচার্য। তিনি সিলেট বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী এবং বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক মঞ্চে একক অনুষ্ঠান করেছেন।
জার্মান প্রবাসীদের কাছে তিনি একটি সুপরিচিত ও শ্রদ্ধার নাম। তার অপেরা সংগীতচর্চার ইতিবৃত্তও দৃষ্টান্তমূলক বিগত ১৭ বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আমেরিকান গুরু সান্দ্রা টোনার ওলে-এর কাছে। ইতোমধ্যে ওপার বাংলা ও বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে মোট ৭টি সঙ্গীত অ্যালবাম।

অনুভব চ্যাটার্জী:তবলার তালে তালে বিশ্বসংস্কৃতির সেতুবন্ধন।ফ্রান্স থেকে আগত তবলাবাদক অনুভব চ্যাটার্জী ইতোমধ্যেই ভারতীয় ধ্রুপদী সঙ্গীতজগতের উজ্জ্বল নাম। কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাল যন্ত্রে ডিগ্রি প্রাপ্ত অনুভব বর্তমানে প্যারিসের ইন্ডিয়ান কনজারভেটরি-তে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত আছেন। ইউরোপ, বাংলাদেশ ও ভারতজুড়ে তার অসংখ্য সঙ্গীতানুষ্ঠান হয়েছে, যা শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে নিঃসন্দেহে।
এই চমৎকার আয়োজনটি সাফল্যমণ্ডিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জার্মান বাংলা অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা-

মুনিব রেজোয়ান, দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লব, রাফিদ কবির, ফাতেমা রহমান রুমা, জান্নাতুন নাঈম, মোহাম্মদ মোস্তফা মোর্শেদ অনিম, নেপাল কান্তি রুদ্র ও নাফিসা শারমিন। তারা শুধু একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন না,বাংলা সংস্কৃতি, সুর ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সেতু নির্মাণ করছেন প্রবাসে থেকেও।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে জার্মান বাংলা অ্যাসোসিয়েশনের নতুন প্রজন্মের সদস্য-

স্কুল শিক্ষার্থীর জারা জাহিদ

ডেমোক্রেসি ইনফুলেন্সার রাফিদ কবির।
ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিতব্য এই রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব নিঃসন্দেহে হবে বাংলা সঙ্গীত ও সাহিত্যপ্রেমীদের এক পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতা। প্রবাসে থেকেও যারা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সংগীতকে হৃদয়ে ধারণ করেন, এই আয়োজন তাদের জন্য এক গর্বময় মিলনমেলা। বাংলা সংস্কৃতির প্রাণস্পর্শী উচ্ছ্বাস ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে অপেক্ষা এখন শুধুই ২৭ জুন বিকেলের।