শিরোনাম :
টেকসই প্রবৃদ্ধিতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতার নতুন দিকনির্দেশনা ২৮তম শাংহাই চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামল রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাঁচ বছরে ২৪ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্য পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে ইতিহাস গড়লেন মেসি, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে অভিযোগ: ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সুরের মিলনমেলা, দুই দিনের আয়োজন শেষ করল সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ফ্রান্সে রেকর্ড দাবদাহে দুই দিনে প্রাণ গেল ১৮ জনের নতুন এল নিনোর প্রভাবে বিপর্যয়ের আশঙ্কা, উষ্ণ হতে পারে ২০২৭ সাল সাড়ে তিন মাস পর হরমুজ প্রণালি পেরোল ‘বাংলার জয়যাত্রা’ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয়, নকআউট নিশ্চিত করল নরওয়ে

ফ্রাঙ্কফুর্টের সন্ধ্যায় রবীন্দ্র-নজরুলের জয়গান

ফাতেমা রহমান রুমা, ফ্রাঙ্কফুর্ট ,জার্মানি:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের আকাশে তখন মৃদু আলো। সালবাউ নীড হলে সেই আলো আরও দীপ্তি পেল দুই বাংলার দুই মহান কবির সৃজন-অগ্নিতে। ২৭ জুন ২০২৫- তারিখটা হয়ে রইল এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাক্ষী। জার্মান বাংলা চ্যানেলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান- “রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব।”

 

সেই সন্ধ্যা যেন মেখে নিয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্র ঠাকুর  ও জাতীয় কবি কাজী নজরুলের কবিতার নীরবতা আর সুরের ঝংকার। স্বাগত ভাষণে মঞ্চে এলেন জার্মান বাংলা এসোসিয়েশনের দিক-নির্দেশক উপদেষ্টা মুনিব রেজোয়ান। তাঁর কণ্ঠে ভেসে এল শ্রদ্ধা আর গর্বের সুর, যে গর্ব দুই বাংলার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের, যে গর্ব রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের জন্মভূমির। অনুভূতির স্রোত বয়ে নিয়ে গেল দেলোয়ার জাহিদ বিপ্লবের কণ্ঠে, যিনি জার্মান বাংলা এসোসিয়েশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর।

 

দূর ইতালি ও অস্ট্রিয়া থেকে আসা অতিথিদের সামনে মঞ্চ আলোকিত করলেন জার্মান বাংলা অ্যাসোসিয়েশনের

নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি,ডেমোক্রেসি ইনফ্লুয়েন্সার রাফিদ কবির।রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের ভাবনা-দর্শন নিয়ে তিনি বললেন ইংরেজিতে, যেন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিলেন দুই কবির প্রাণস্পন্দন।

মঞ্চের আলো বদলে গেল, স্পটলাইট এসে পড়ল ইতালি থেকে আগত সাংবাদিক মার্থা’র উপর। তিনি বললেন নিজের অনুভূতির কথা-এক প্রবাসীর মনে বাংলা সংস্কৃতির জন্য কত গভীর টান, সেটি যেন ধরা পড়ল তাঁর কণ্ঠের উত্তাপে।

এরপর মঞ্চ দখল করলেন জার্মান ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ফাইন্যান্স কনসালট্যান্ট, “আওয়ার ভয়েস”-এর প্রধান সম্পাদক এবং বন সিটি কাউন্সিলে নির্বাচনে (এসপিডি) পদপ্রার্থী ড. আব্দুল হাই। তাঁর কথা যেন আকাশে তুলল আশা আর আত্মবিশ্বাসের রঙ।

কবিতা যখন মঞ্চে নামে, তখন সময়ও যেন কিছুক্ষণ থমকে দাঁড়ায়। কাহ্ন জাতিস্মর আবৃত্তি করলেন রবীন্দ্রনাথের “আমার পৃথিবী।” তাঁর কণ্ঠে কবিতার শব্দগুলো যেন সুর হয়ে মিশে গেল হলরুমের বাতাসে। এরপর মঞ্চে এলেন হাফিজুর রহমান আলম, যিনি কবিতায় ভরিয়ে তুললেন শ্রোতাদের মন।

তবে সন্ধ্যার প্রাণভোমরা হয়ে উঠলেন সঙ্গীতশিল্পীরা। আঁখি হালদার, রবীন্দ্রসঙ্গীতের আন্তর্জাতিক মুখ, তাঁর সুরে মাখিয়ে দিলেন বাঙালির মন। আর ছোটবেলা থেকে নজরুল ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে দীক্ষিত, দুই বাংলায় সুপরিচিত শিল্পী তাপসী রায় তাঁর সুরের ঝংকারে প্রবাসের মঞ্চে ফিরিয়ে আনলেন মাটির গন্ধ, বাংলার মায়া। তাঁদের সুরে সঙ্গত করলেন ফ্রান্স থেকে আগত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তবলা বাদক অনুভব চ্যাটার্জী। তবলার প্রতিটি ঠুক, প্রতিটি ঘূর্ণি যেন মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখল দর্শককে।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ফ্রাঙ্কফুর্টে এমন বিশাল আয়োজন করল জার্মান বাংলা চ্যানেল। প্রবাসীরা বলছেন-এ যেন নিছক অনুষ্ঠান নয়, এ ছিল প্রবাসের বুকে বাংলা সংস্কৃতির এক গৌরবময় মহোৎসব। ফ্রাঙ্কফুর্টের মাটিতে গেয়ে উঠল দুই কবির জয়গান, গেয়ে উঠল বাংলার প্রাণের সুর।

অনুষ্ঠানে ইতালি থেকে আগত সাংবাদিক মাত্রা এবং অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের হাতে সম্মাননা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন জার্মান বাংলা এসোসিয়েশনের সদস্যরা।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ফ্রাঙ্কফুর্টের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও জার্মান বাংলা টোয়েন্টিফোর

ডটকমের সম্পাদক ফাতেমা রহমান রুমা। মঞ্চের আলো নিভে এলো, শেষ হলো অনুষ্ঠান। কিন্তু দর্শকের মনে রয়ে গেল সেই সুর, সেই কবিতা, সেই প্রেরণা। রাতের প্রিয় প্রহরে পরিবেশিত হলো বাঙালির প্রিয় স্বাদের খাবার। আর তার সঙ্গেই শেষ হলো “রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব”-একটি স্মরণীয় প্রবাসী বাংলা সন্ধ্যা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD