লাতিন আমেরিকার পেরুতে জেন-জি আন্দোলনের কারণে ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানী লিমায় শত শত সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরুতে বিক্ষোভের মূল কারণ সামাজিক অস্থিরতা, সরকারি দুর্নীতি, সংগঠিত অপরাধ এবং সাম্প্রতিক পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
একজন বিক্ষোভকারী গ্লাডিস বলেন, “আজকের দিনে গণতন্ত্রের মান আগের তুলনায় কমে গেছে। ভয় এবং চাঁদাবাজি পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে।”
প্রায় ৫০০ মানুষ কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেও লিমার কেন্দ্রে সমবেত হয়। আরেকজন বিক্ষোভকারী সেলেন আমাসিফুয়েন বলেন, “কংগ্রেসের প্রতি জনগণের বিশ্বাস নেই। তারা দেশটাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।”
বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট ভবন ও কংগ্রেস ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় রেডিও এক্সিতোসা জানিয়েছে, প্রতিবেদক ও ক্যামেরাম্যান আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত তিনজন সদস্যও আহত হয়েছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের জনপ্রিয়তা কমে গেছে, এবং আগামী বছর তার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। জনঅসন্তোষের কারণ হিসেবে চাঁদাবাজি ও সংগঠিত অপরাধের বৃদ্ধি উল্লেখ করা হচ্ছে।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, সরকার ও কংগ্রেসের ওপর নাগরিকদের আস্থা কম, এবং তারা উভয়কেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সম্প্রতি সংসদ একটি আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে যুবকরা একটি বেসরকারি পেনশন ফান্ডে যোগদানের জন্য বাধ্য হবেন, যদিও অনেক তরুণ অনিশ্চিত কর্মপরিস্থিতির মুখোমুখি।
তুলনামূলক হিসেবে উল্লেখ্য, নেপালে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে জেন-জি বিক্ষোভে সরকারের পতন ঘটে এবং ৮–৯ সেপ্টেম্বরের এই বিক্ষোভে ৭২ জন নিহত হন। এটি গত কয়েক দশকের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: আরব নিউজ।