যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় ‘উই আর অল ডিসি’ শিরোনামে আয়োজিত এই মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন অনিবন্ধিত অভিবাসী এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থকরাও।
বিক্ষোভকারীরা হাতে ব্যানার নিয়ে শ্লোগান দেন “ট্রাম্পকে এখনই বিদায় করতে হবে”, “ডিসিকে মুক্ত করো”, “স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ো।” অংশগ্রহণকারী অ্যালেক্স লফার বলেন, “আমরা কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরোধিতা করছি। আমাদের রাস্তায় ফেডারেল পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের কোনো জায়গা নেই।”
গত মাসে অপরাধ দমনের অজুহাতে ওয়াশিংটনে সেনা পাঠান ট্রাম্প। তার দাবি ছিল, শহরে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এ পদক্ষেপ প্রয়োজন। কিন্তু বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডিসিতে সহিংস অপরাধ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বর্তমানে ছয়টি রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দুই হাজারের বেশি সেনা শহরে টহল দিচ্ছে।
এর আগে ‘অপরাধ বৃদ্ধির কারণে জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তবে এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে গত ৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসি প্রশাসন আদালতে মামলা করেছে। ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়ালব মোতায়েনকে “নজিরবিহীন, অপ্রয়োজনীয় এবং অবৈধ” আখ্যা দিয়ে বলেন, বাস্তবে শহরে অপরাধের হার গত দুই বছরে ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
বিক্ষোভের দিন ট্রাম্প রাজধানীতে না থেকে গলফ মাঠে সময় কাটান। পরে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে তিনি শিকাগোতেও সেনা পাঠানোর ইঙ্গিত দেন। এক পোস্টে লেখেন, “আমার সকালে নির্বাসনের গন্ধ ভালো লাগে”— যা ১৯৭৯ সালের একটি যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের সংলাপের ব্যঙ্গাত্মক রূপ। আরেক পোস্টে সতর্ক করে তিনি লিখেছেন, শিকাগো শিগগিরই বুঝতে পারবে কেন একে ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বলা হয়।
সূত্র: রয়টার্স।