বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্য ‘অসত্য, দুরভিসন্ধিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। তারা বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর এরূপ অসত্য বক্তব্য শুধু দেশের জন্য নয়, তার ভাবমূর্তির জন্যও ক্ষতিকর এবং সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গের সামিল।’
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাপানের নিক্কেই সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি দল বাদে কেউ ডিসেম্বরে নির্বাচন চায় না। তার এমন বক্তব্যকে ‘সত্যের অপলাপ’ বলে উল্লেখ করেছেন বাম নেতারা।
শুক্রবার (৩০ মে) বাম গণতান্ত্রিক জোটের এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।
বাম জোট নেতারা বলেন, ‘শুধু একটি দল নয়, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ দেশের নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত ৫০টিরও অধিক রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়।’
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতিতে বাম জোট নেতারা বলেন, ‘মূলত ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বর্তী সরকার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নবগঠিত দলকে রাজনৈতিক সুবিধা দেয়ার জন্য নির্বাচন পেছানোর অপকৌশল নিয়েছে। এজন্য বিদেশে এই অসত্য বয়ান তিনি তুলে ধরেছেন।’
জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচন বানচালের অভিযোগ আনেন বাম নেতারা। তারা বলেন, ‘সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নবগঠিত একটি রাজনৈতিক দল এবং ‘৭১-এর যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী কতিপয় উগ্র সাম্প্রদায়িক দল ও গোষ্ঠী নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তারা দেশে অস্থিতিশীল-নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির নানা রকম অপতৎপরতা চালাচ্ছে; যা দেশকে ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে নিপতিত করবে। দ্রæত প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সংস্কার শেষ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।