দক্ষিণ চীন সাগরে শক্তি সঞ্চয় করে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় কাজিকি, যার প্রভাবে ভিয়েতনাম ও চীনের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে দুই দেশে লাখ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি ফ্লাইট, নৌযান চলাচল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
ভিয়েতনামের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় উপকূল থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৯ কিমি, যা উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ১৭০ কিমি পর্যন্ত বাড়তে পারে। থান হোয়া, কোয়াং ত্রি, হুয়ে ও দা নাং প্রদেশ থেকে প্রায় ৫ লাখ ৮৬ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার নৌকা ও ২ লাখ ৪৯ হাজার জেলেকে সতর্ক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন জরুরি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
চীনের হাইনান দ্বীপেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব অনুভূত হচ্ছে। পর্যটন নগরী সানিয়ায় শপিং সেন্টার, রেস্তোরাঁ ও গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে, আর রাজধানী হাইকোতে তিনটি বন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, হাইনানে ৪০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
পাশাপাশি থাইল্যান্ডও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। আন্দামান সাগর ও থাইল্যান্ড উপসাগরে ঢেউ ৩ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা অর্জন করতে পারে।
এ বছর দক্ষিণ চীন সাগরে এটি পঞ্চম ট্রপিক্যাল স্টর্ম। ভিয়েতনাম সরকার মনে করছে, কাজিকি গত বছরের ভয়াবহ টাইফুন ইয়াগির মতো হতে পারে, যা তখন প্রায় ৩০০ জনের প্রাণহানি ও ৩৩ কোটি ডলারের ক্ষতি ঘটিয়েছিল।