থাইল্যান্ডের সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রাকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার এ রায় দেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্বে শাস্তিভোগের সময় কারাগারের পরিবর্তে হাসপাতালের ভিআইপি কক্ষে অবস্থান করায় থাকসিন এই সাজা পেলেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করে, ৭৬ বছর বয়সী এই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ কেবল চিকিৎসার কারণে নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থেকেছেন—যা আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।
থাকসিনের জন্য এ রায় তার পরিবার ও রাজনৈতিক শিবিরে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিনাওয়াত্রা পরিবার দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে থাই রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। মাত্র ১১ দিন আগে আদালতের রায়ে তার মেয়ে ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী পদ হারান।
২০২৩ সালে ১৫ বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে দেশে ফেরেন থাকসিন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও রাজকীয় ক্ষমায় তা কমে এক বছরে নেমে আসে। তবে জেলখানায় কয়েক ঘণ্টা কাটানোর পরই হৃদরোগের অজুহাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই ছয় মাস ধরে ভিআইপি কক্ষে থাকার সুযোগ পান তিনি, যা নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে সংসদে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী অনুতিন চার্নভিরাকুল নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এতে থাকসিনের দল পিউ থাই বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।