ছবি : ইন্টারনেট
থাইল্যান্ডে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নির্মাণাধীন একটি ক্রেন ভেঙে চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বুধবার সকালে রাজধানী ব্যাংককের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও জেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
থাই পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উদ্ধার অভিযানে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ব্যাংকক থেকে উবন রাতচাথানি প্রদেশের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী ট্রেনটি নাখোন রাতচাসিমা প্রদেশের শিখিও এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ওই এলাকায় একটি উচ্চগতির রেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছিল। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি বড় ক্রেন হঠাৎ ভেঙে পড়ে ট্রেনটির একটি বগির ওপর আঘাত হানে। এতে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকটি বগিতে আগুন ধরে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ থেকে আহত ও নিহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনের বগিগুলো মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
থাইল্যান্ডের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসন বিন্যাস অনুযায়ী দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে মোট ১৯৫ জন যাত্রী ও রেলকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নির্মাণাধীন রেল প্রকল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।