এ.এম. উবায়েদ, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ১৬টি মন্দিরে পুরোদমে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি। ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিমা তৈরির কারিগররা। আশ্বিনের খরতাপে, শরতের শেষ মুহূর্তে ও হেমন্তের ভরা যৌবনে এ মহোৎসবকে জাঁকজমকপুর্ণ করে তুলতে উপজেলার মন্দিরগুলোতে চলছে নানা রকম প্রস্তুতি। আগামী ১৫ অক্টোবর ঘটপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দূর্গাপূজার এ মহোৎসব। এ বছর দেবী দুর্গা ঘোটকে (ঘোড়া) আগমন এবং ঘোটাকেই (ঘোড়া) গমন করবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৭ ইউনিয়নের সদর বাজারের কালীবাড়ীসহ বিভিন্ন দূর্গামন্দিরে স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মৃৎশিল্পীরা রাত-দিন প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এলাকার পাড়া-মহল্লায় এবং বাসা-বাড়ীতে পারিবারিক পূজামন্ডপে হরেক রকম প্রতিমা তৈরি করছেন কারিগররা। শারদীয় এ মহোৎসবের একেকটি আধুনিক প্রতিমা তৈরি করতে কেউ কেউ ব্যয় করছেন কয়েক লাখ টাকা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, অশুভ শক্তি কিংবা অসুর শক্তি বিনাশ ঘটিয়ে শুভ সুর শক্তি প্রতিষ্ঠা করায় এ শারদীয় দূর্গাপূজার মূল দর্শন। সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং জনজীবনে সব ভেদাভেদ ভুলে সার্বজনীন এ মিলনমেলাই শারদীয় মহোৎসবের নামকরণ। এ অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনের সার্বিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সব ধরনের পূজা উৎযাপন করতে পারছি।
উপজেলা সদর বাজার কালিবাড়িতে প্রতিমা তৈরির কারিগররা জানান, আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজা গিরে হরেক রকম ডিজাইন ও কারু কাজসহ প্রতিমা সমাপনী কাজ সারতে সময় লাগে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিনমাস। বছরের বেশির ভাগ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকেন।
তারা আরো জানান, এ অঞ্চলের শারদীয় মহোৎসবে দূর্গাপ্রতিমা তৈরিতে খড়কুটা, পাট, সুতা, বাঁশ, রশি ও মাটিসহ বিভিন্ন কাঁচামাল দিয়ে দূর্গাপ্রতিমার কাটামো তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা ছোট প্রতিমায় ৩০০ টাকা থেকে সাত-আট’শ টাকা এবং বড় প্রতিমাগুলোয় ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন এবং ফাঁকে ফাঁকে চুক্তির মাধ্যমে নানা রকম সাইজের প্রতিমা বিক্রিও করেন।
তাড়াইল উপজেলা হিন্দু সম্প্রদায় নেতা ও দূর্গাপূজা কমিটির সভাপতি রবিন্দ্র সরকার জানান, আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজার এ মহোৎসব গতবারের চেয়ে এ বছর ব্যাপক জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করার জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। দূর্গাপ্রতিমা তৈরি অনেকটা ব্যয়বহুল হলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখতে সচেষ্ট হবে।