শিরোনাম :
মণিপুরে গির্জার নেতাদের গাড়িবহরে হামলায় নিহত চার্চ নেতারা গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনে অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সফল সমন্বয় সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বৈশ্বিক সংলাপে চীন-ইউনেস্কো সহযোগিতা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহারে চার দফা প্রস্তাব চীন-মার্কিন শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে বাড়ছে বৈশ্বিক প্রত্যাশা নাহিদ ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশের বড় জয় একনেকে অনুমোদন পেল ৩৬ হাজার কোটি টাকার ৯ উন্নয়ন প্রকল্প প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ২ কোটি টাকার ভারতীয় গলদা চিংড়ির রেনু পোনা জব্দ; খোয়াই নদীতে অবমুক্ত

ডিসেম্বরে নির্বাচন দাবিতে উত্তপ্ত হতে পারে ঢাকা

আশীষ কুমার দে:
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫

 

আশীষ কুমার দে, ঢাকা, ৪ এপ্রিল:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন প্রধান ইস্যু জাতীয় নির্বাচন। সম্প্রতি বিএনপি’র শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা পৃথকভাবে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।

তবে নির্বাচন কবে নাগাদ হবে, সে সম্পর্কে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় ঘোষণা করা হয়নি। সরকার আগের মতোই চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলে যাচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন যে দানা বেঁধে উঠছে তা দলটির তিন শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।

অন্যদিকে, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের নেতৃত্বে গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা তাদের আগের দাবিতেই অটল রয়েছেন। নতুন দলটির দাবি, পতিত আওয়ামী লীগের বিচার এবং সংস্কারের পর গণপরিষদ ভোটে সংবিধান চূড়ান্ত করতে হবে। তারপরই জাতীয় নির্বাচন হবে। এনসিপির আহবায়ক এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম অতিসম্প্রতি আবারো বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কোনো অধিকার এদেশে নেই।

বিএনপি শুরু থেকে সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের দাবি তুলে আসলেও আওয়ামী লীগ নিয়ে নাহিদের এই বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি দলটি।

তবে নতুন দলের আরেক নেতা সারজিস আলমের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বিএনপিসহ অনেক দলের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সারজিস বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে (বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ও সরকারপ্রধান) তারা পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। যদিও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ‘প্রধানমন্ত্রী পদ নেই। এছাড়া নির্বাচনের বাইরে গিয়ে পাঁচ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকারও কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এখনই নির্বাচনের দাবি না তুললেও দলটি সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ৩০০ আসনে অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। তবে এনসিপির মতো জামায়াতও নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর বিচার চায়।

কয়েকদিন আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশের পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।

ঈদুল ফিতরের আগের দিন ৩০ মার্চ ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদেরকে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বাদ দেয়ার জন্য প্রধান উপেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ফখরুল বলেছেন, এসব উপদেষ্টা সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। তবে তিনি উপদেষ্টাদের নাম উল্লেখ করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন নির্বাচন বিলম্বিত হলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের দাবির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এ দেশের জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতি করে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আবারো রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঈদের দিন চট্টগ্রামে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও অভিন্ন সুরে কথা বলেছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের পক্ষে বিএনপির অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, দেশবাসীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপি প্রয়োজনে আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত।

অন্যদিকে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগের দিন ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া টেলিভিশন ও বেতার ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা না করায় বিএনপি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৬ মার্চ সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবিতে বিএনপির শক্ত অবস্থানেই রয়েছে এবং এজন্য প্রয়োজনে তারা আবারো রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছে। অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ পতিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী, আমলা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিচার দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়ে আছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এছাড়া নির্বাচন প্রশ্নে নতুন এ দলটির আরেকটি বড় দাবি হচ্ছে, সংবিধান সংস্কার কমিটির সুপারিশ মোতাবেক নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং গণপরিষদ ভোটের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করণের আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে না। তবে এই দাবি মানতে নারাজ বিএনপি।

এই মুহূর্তে দেশের সর্ববৃহৎ এ দলটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতাকেই প্রাধান্য দিতে চায়। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বারবার বলে আসছেন, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। দেশ একবারই স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে।

আর এনসিপিসহ তাদের সমর্থক রাজনৈতিক শক্তিগুলো ৫ আগস্ট ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে দাবি করছে। সংবিধানে থাকা ধর্মনিরপেক্ষতাও বহাল রাখতে চায় বিএনপি; যা মানতে মোটেও রাজি নয় এনসিপি। এছাড়া সংবিধান নতুন করে লেখারও ঘোরবিরোধী বিএনপি।

এসব জটিল বিষয় নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে কিছুদিন যাবত পরোক্ষ বাকযুদ্ধ চললেও সরকার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে না। বরং কিছুদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাত করতে গেলে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে বলে যে কথা বলেছিলেন, তাও আস্থায় আনতে পারছে না বিএনপি ও তাদের সমর্থক দলগুলোসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।

প্রধান উপদেষ্টার ২৫ মার্চের ভাষণ ও তাঁর প্রেস সচিবের ব্রিফিংয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বারংবার উচ্চারিত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এই আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা, ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে রোডম্যাপসহ নির্দিষ্ট সময় জানানো উচিৎ। না হলে রাজনীতিতে উত্তাপ দিনদিনই বাড়বে। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে সরকারকে আর ছাড় দেবে না বিএনপি। সে ক্ষেত্রে ঈদুল আজহার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে ঢাকা।

লেখক: সাংবাদিক, লেখক ও অধিকারকর্মী।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD