জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যুতে অস্বস্তিতে পড়েছে। জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে দলীয় নেতা–কর্মীদের মধ্যে মৌলিক মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ।
এ অস্বস্তি তীব্র হয় জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে দলটির শীর্ষ পাঁচ নেতার কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে। ঐতিহাসিক দিনে তাদের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা সৃষ্টি করেছে এবং দলীয় ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দীন সিফাত জানান, শোকজ নোটিসের জবাব সংশ্লিষ্ট নেতারা জমা দিয়েছেন, যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে তাদের লিখিত জবাব প্রকাশ করেন, যদিও হাসনাত কিছুক্ষণ পর পোস্ট মুছে ফেলেন।
হাসনাত জানান, ঘোষণাপত্রের চূড়ান্ত খসড়ায় এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা অভ্যুত্থানের লক্ষ্য–আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর অর্পণের প্রস্তাবকে তিনি ভুল ও প্রতিবন্ধক মনে করেন। এছাড়া ৪ আগস্টের অনুষ্ঠানে আন্দোলনের আহত ও নেতৃত্বদানকারীদের আমন্ত্রণ না দেওয়াকে রাজনৈতিক ও নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। ব্যক্তিগত সফরকে কেন্দ্র করে শোকজ নোটিস দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসনাত বলেন, পার্টির উচিত ছিল মিথ্যা তথ্য ছড়ানোয় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার জবাবে লেখেন, ব্যক্তিগত সফর অপরাধ নয়; বরং সমুদ্রপাড়ে বসে তিনি গণঅভ্যুত্থান, পার্টির কাঠামো, ভবিষ্যৎ গণপরিষদ ও নতুন সংবিধানের রূপরেখা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেছেন।
এনসিপির ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। দলটির দাবি—নির্বাচনের আগে সংস্কার কার্যক্রম, বিচার প্রক্রিয়া, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব তারা পরবর্তী সংসদের হাতে ছাড়তে রাজি নয়। আগামী নির্বাচনকে গণপরিষদ নির্বাচন আকারে আয়োজন করা হলে এনসিপি অংশ নেবে; অন্যথায় বর্জনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বলেন, “আমরা নতুন কোনো স্বৈরাচারী শাসনের কবলে পড়তে চাই না। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রণয়নের লক্ষ্য অপূর্ণ রেখে তড়িঘড়ি নির্বাচন হলে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।”