রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছেন জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করে দাবিসনদ বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিবাদ শুরু করেন। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। অথচ আজও তাঁদের ত্যাগের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসেনি। বারবার আশ্বাসের পরও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার তাঁরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা নানা স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল— ‘জুলাই সনদ নিয়ে তালবাহানা চলবে না’, ‘রক্ত লাগলে রক্ত নে, জুলাই সনদ দিয়ে দে’, ‘বুক পেতেছি, গুলি কর’—এমন প্রতিবাদী ধ্বনি।
আন্দোলনের সংগঠক মাসুদ রানা সৌরভ বলেন, “আমরা সরকারের সঙ্গে বহুবার শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনায় বসেছি। প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি মিলেছে, বাস্তবায়ন হয়নি কিছুই। এবার কোনো আশ্বাস নয়, আমাদের দাবি একটাই—জুলাই সনদ অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।”
আন্দোলনে আহত নাজির আহমেদ খান বলেন, “আমরা শুধু আন্দোলন করিনি, আমরা রক্ত দিয়েছি। কেউ নিখোঁজ, কেউ আহত, কেউ শহীদ হয়েছেন। সেই সংগ্রামের কোনো মূল্য যদি রাষ্ট্র না দেয়, তবে আমরা রাজপথেই থাকব।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দুটি প্রধান দাবি—এক. সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই সনদ’ ঘোষণা করতে হবে; দুই. ওই ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করতে হবে। এই দাবির বাইরে আমরা আর কিছু শুনতে চাই না।”
আন্দোলনকারী বাবু ইসলাম অভিযোগ করেন, “আমাদের ‘জুলাইযোদ্ধা কার্ড’ দেওয়া হলেও তার আওতায় কোনো চিকিৎসা, ভাতা বা সহায়তা পাচ্ছি না। কাগজে কলমে স্বীকৃতি নয়, আমরা চাই আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তব সুরক্ষা।”
অবরোধের কারণে যান চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর। তিনি বলেন, “অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।”
আন্দোলনকারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পরিবারগুলোর চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা, সম্মানজনক ভাতা চালু, বিশেষ আইনি সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন ‘সত্য ও ন্যায় কমিশন’ গঠন।