আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, ২৪-এর একতরফা জাতীয় নির্বাচনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পরই পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে দুরত্ব বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তা তিক্ত সম্পর্কে রূপ নেয়,তার কার্যক্রমে বিরক্ত ছিলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তারা। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দুরত্ব বাড়তে থাকে বিশ্ব রাজনীতির। কূটনৈতিক মেরুকরণ বদলে যেতে থাকে। পশ্চিমা দেশের সঙ্গে কোন কূটনৈতিক সম্পর্কই ধরে রাখতে পারেনি শেখ হাসিনা সরকার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার মতো কোনো নেটওয়ার্কই হাছান মাহমুদের ছিলো না। তার সেই বৈশ্বিক রাজনীতির কোনো অভিজ্ঞ ধারণাও নেই। যদিও ১৫ বছরে তার উত্থানই রহস্যজনক।
জুলাইয়ে কোটা ইস্যুতে ছাত্র আন্দোলনে বিদেশি দূতাবাসের তথ্য তিনি শেখ হাসিনাকে ঠিকঠাক দেননি। এই অভিযোগ উঠেছে তারা বিরুদ্ধে।
জুলাইয়ের শেষের দিকে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন সাত দিন হাছান মাহমুদ নিজের কাছে রেখে দেন। সাতদিন পরে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। এরপর ১৪টি দেশের কূটনীতিকদের একটি চিঠি তিন দিন পর শেখ হাসিনাকে দেন হাছান মাহমুদ। বিভিন্ন সূত্রে এই তথ্য উঠে এসেছে। আরেকটি বৈঠকে তৎকালিন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের আক্রমণাত্মক প্রতিবাদী বক্তব্যের কথাও সরকারকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি হাছান মাহমুদ।
আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হাছান মাহমুদ বিমানযোগে নিরাপদে ঢাকা ছাড়েন। তবে কি তিনি চট্টগ্রাম ইজমকে ইবাদাতের মতো পালন করেছেন। না কি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাইয়ের পক্ষে নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন।
হাছান মাহমুদ টানা মন্ত্রী, দলের এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মতো পদে ঢুকে পড়া সবই তৃতীয়পক্ষের আর্শিবাদ ও ছায়া ছিলো।
জুলাই আগস্টের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের একাধিক মন্ত্রী, এমপির সম্পৃক্ততার গুঞ্জন শোনা যায়।
যদিও শেখ হাসিনা সরকারের শেষ মন্ত্রী পরিষদ ছিলো ঘেঁটু পুত্র কমলা টাইপের। অচল মালে ভরা ছিলো কেবিনেট।
শেখ হাসিনার সরকারের শেষের দিকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ এ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনের শেষে প্রবাসী নাগরিকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাসান মাহমুদ এর উপস্থিতিতে কিছু অসাধু নামধারী জার্মান আওয়ামিলীগ নেতা সেদিন সাংবাদিক ফাতেমা রহমান রুমা সহ একাধিক বস্তনিষ্ঠ সংবাদকর্মী দের ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে বাইড়ে কণকণা ঠান্ডায় দাড় করিয়ে রাখেন। নেত্রীকে কর্মিদের কাছে আসতে বিরত রাখেন, এমনকি প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধাদেরকেও শেখ হাসিনার কাছে আসতে বাধা প্রদান করা হয়। চিরাচরিত নিয়মের বাইড়ে সেটা ছিলো ব্যাতিক্রম।সেদিন অনেক তৃণমূল কর্মিদের মুখে নেত্রী আর তৃনমূল কর্মির মাঝের দুরত্বের কথা বলতে শোনা যায়।