রংপুরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাসভবনে হামলা হয়েছে। এ সময় সেখানে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাত ৯টার দিকে রংপুর মহানগরের সেনপাড়ায় ‘স্কাইভিউ’ নামক বাসভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
পরে দলটির নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেন এবং ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে জাতীয় নাগরিক পাটির নেতা সারজিস আলম ফেসবুকে লেখেন, “জাতীয় পার্টি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় দোসর। বিরোধী দলের যাবতীয় সুবিধা ভোগ করে আওয়ামী লীগকে সরকারি দলের বৈধতা দিয়েছিল এই জাতীয় পার্টি।”
“প্রত্যেক ইলেকশনের আগে অবৈধ সরকারি দলের বিরোধিতার নামে জাতীয় পার্টি ভÐামি করত” – উল্লেখ করেন সারজিস।
ফেসবুক পোস্টে সারজিস আরো লেখেন, “এরপর নির্বাচনের ঠিক কয়েকদিন আগে জিএম কাদের ভারতে গিয়ে নেগোসিয়েশন করে ডামি বিরোধী দল সেজে বসে থাকত।”
‘সেই জিএম কাদের এখনও বাইরে কীভাবে প্রশ্ন তুলে সারজিস লেখেন, “সরকারকে ধাক্কা না দিলে কি কাজ হয় না? নাকি প্রত্যেকটা কাজের জন্য ছাত্র-জনতাকে নতুন করে মাঠে নামতে হবে?”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন। সেখান থেকে তারা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে ¯েøাগান দিয়ে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে মিছিল করেন।
মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়-সংলগ্ন গ্র্যান্ড হোটেল মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। পরে পরে সেখান থেকে সেনপাড়ায় গিয়ে এরশাদের বাসভবন ‘স্কাইভিউতে’ ঢিল ছুঁড়ে মারেন তারা। একপর্যায়ে তারা তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।