বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন কাজ করবে। তবে তারা কোনো গণভোট পর্যবেক্ষণ করবে না বলে জানিয়েছেন ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি।
ইয়ার ইয়াবস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন প্রায় দুই মাস ধরে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে। “আমরা কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচনই পর্যবেক্ষণ করব, গণভোট আমাদের ম্যান্ডেটের আওতায় নয়,”—স্পষ্ট করেন তিনি।
অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইয়ার ইয়াবস বলেন, ইইউ একটি সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের—পুরুষ, নারী, সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ—অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। তিনি বলেন, “নির্বাচনে কত শতাংশ ভোটার অংশ নিচ্ছে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান বলেন, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন ইয়ার ইয়াবস।
তিনি জানান, আজ রোববার ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রয়োজনীয় ব্রিফিং শেষে আগামী শনিবার থেকে তারা বাংলাদেশের সব বিভাগে মোতায়েন হবেন এবং ৬৪টি জেলায় নির্বাচন প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচনের ঠিক আগে মিশনের সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক। পাশাপাশি ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের পর্যবেক্ষকরাও এই কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
ইয়ার ইয়াবস আরও জানান, ভোটের কাছাকাছি সময়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় ইইউর ২৭টি সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশ থেকে আসা প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক এই মিশনে যুক্ত থাকবেন।
মিশনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জাতীয় আইন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন কতটা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা মূল্যায়নই তাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য আইনি কাঠামো, নির্বাচন পরিচালনা ব্যবস্থা, নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের আচরণ, ভোটার তালিকার প্রতি আস্থা, নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের পরিসর পর্যবেক্ষণ করা হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনসংক্রান্ত আলোচনাও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
ইইউ পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান জানান, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি—নির্বাচনের দুই দিন পর—ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিশন বাংলাদেশে অবস্থান করবে। প্রায় দুই মাস পর তিনি পুনরায় বাংলাদেশে এসে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।