“প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নিরপেক্ষতা আশা করে জাতি”
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) আগামী ডিসেম্বরের পরে হওয়ার ‘একটি কারণও’নেই বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি।
সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
জাতি প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নিরপেক্ষতা আশা করে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, “আমরা অবশ্যই মনে করি, ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব; যদি এর আগেই আমরা নির্বাচনমুখী সংশোধনীগুলো চিহ্নিত করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জরুরিভাবে বাস্তবায়ন করি।”
“তবে এমন কোনো সংস্কার নেই, যা এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। শুধুমাত্র সংবিধান ব্যতীত অন্য যে সংস্কারগুলো আছে তা নির্বাহী আদেশে বা অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে এক মাসের ভিতরে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। যেটা আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। সুতরাং নির্বাচন ডিসেম্বরের পরে যাওয়ার একটি কারণও নেই”- বলেন সালাহউদ্দিন।
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের পর বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন বলেন, “বৈঠকে অধিকাংশ দলই ডিসেম্বরের আগে নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা আশা করি, প্রধান উপদেষ্টা সেটি বিবেচনা করবেন। প্রধান উপদেষ্টা নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করবেন বলেও আশা করি আমরা। কারও প্রতি রাগ-বিরাগ, অভিমান প্রদর্শন করবেন না। জাতি তার কাছে নিরপেক্ষতা আশা করে।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা সংস্কার কমিশনে বিস্তারিত মতামত দিয়েছি। সংস্কার বিষয়ে আমরা তিনদিন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সংস্কার কমিশন অন্যান্য দলের সঙ্গেও বৈঠক করেছে। আমরা আমাদের মতামত লিখিতভাবেও দিয়েছি।”
“আমরা আলোচনা মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কাছাকাছি আসতে পেরেছি।”
বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিতে জোরালো দাবি জানাচ্ছে। গত ২২ মে দলটি বলেছে, এই দাবি পূরণ না হলে তারা সরকারকে আর সহযোগিতা করবে না।
সেদিনই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে সেদিন সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে তুমুল আলোচনার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সরকারকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার পরামর্শ দেন।
এরপর বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে এবং এর একদিন পর ছোট ছোট ২০টি দলের সঙ্গে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকে বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি লিখিতভাবে তুলে ধরে।
তবে অন্য কোনো দল এমন দাবি জানায়নি। বরং তারা চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে ইউনূসের বক্তব্যে আস্থা রেখেছে বলে জানিয়েছিলেন তাঁর প্রেস সচিব।
এরপর সরকারের তরফে কোনো আশ্বাস না আসার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় হতাশা প্রকাশ করে বিএনপি।
সম্প্রতি জাপান সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, একটি মাত্র দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাচ্ছে। সরকারপ্রধানের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দলটি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সংবিধান সংশোধনী যেসব প্রস্তাব বিভিন্ন দল দিয়েছে, আমাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উনারা যেভাবে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, তাতে আগামী এক মাসের মধ্যে একটা ঐকমত্যে আসা সম্ভব বলে মনে করি। কিছু কিছু বিষয়ে অবশ্যই দ্বিমত থাকবে, সব বিষয়ে সবাই একমত হবে- এমনটা আমরা আশাও করি না।
যেসব বিষয়ে আমার একমত হতে পারবে সেটা অবশ্যই পরবর্তী সংসদে সংশোধনী হবে। এসব বিষয়ে এখন ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সনদের স্বাক্ষরিত হলেই হবে। এটা আমাদের ইলেকশন মেনুফ্যাকচারেও আসবে। এটা অঙ্গীকার হিসেবে থাকবে।”
“আমার কাছে মনে হয়েছে ওনারা যথেষ্ট আন্তরিক, তবে ইতিমধ্যে অনেক সময়ক্ষেপণ হয়েছে। আশা করি আর বেশি সময় নেবেন না। এই মাসের মধ্যে একটা কম্পাইল করা সম্ভব হবে।”