২৩ শে ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ শে মার্চ ৫ সপ্তাহ ব্যাপী চলা ৬১তম মানবাধিকার অধিবেশনে বাংলাদেশের উগ্র মৌলবাদের উত্থান ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ৩ দিন ব্যাপী পোস্টার প্রদর্শনী, প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশ ও অধিবেশন চলাকালীন একাধিক সাইড লাইন সেমিনারে অসংখ্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিকগন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
৬১ তম মানবাধিকার অধিবেশন চলাকালীন ২৬,২৭, ও ২৮ শে মার্চ তিন দিন ব্যাপী সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জেনেভাস্হ জাতিসংঘ ব্রোকেন চেয়ার চত্বরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে “ ক্রাইম এ্যাগেইনেস্ট হিউম্যানটি “ শীর্ষক পোস্টার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ইউনুস রেজিমের বিগত উনিশ মাস সময় কালে, ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও উগ্র মুসলিম মৌলবাদের উত্থান সংক্রান্ত, মোট ৩০ টি পোস্টার উপস্থাপন করা হয়। পোস্টারে বাংলাদেশে নারী ও আদিবাসীদের ওপর সহিংসতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘No Press Freedom in Bangladesh’ লেখা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত ও চিন্ময় প্রভুসহ আটক সকলের মুক্তির দাবি সম্বলিত চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রদর্শনীর উদ্যেক্তা সংগঠক জেনেভাস্হ মানবাধিকার কর্মী “ রহমান খলিলুর মামুন.” বলেন- বাংলাদেশের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বজনমত গড় তোলার লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী পোস্টার প্রদর্শনী তে মোট পাঁচটি ক্যাটাগরী ৩০ টি ছবি উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্যাটাগরী গুলো নিম্নরূপ ঃ (১) উগ্র ইসলামিক মৌলবাদের উত্থান।
(২) বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন (৩) সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা কন্ঠ রোধ ও সাংবাদিক নির্যাতন , , (৪) মব সন্ত্রাস ও নারী- শিশু যৌন নির্যাতন। (৫) বাংলাদেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহতা।
বিপুল সংখ্যক বিদেশি কূটনীতিক, সহস্রাধিক বিদেশি এনজিও কর্মী ও ৬১ তম অধিবেশনে আগত শত শত মানবাধিকার কর্মী পোস্টারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহতা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
২৭শে মার্চে বিকেলে জাতিসংঘ প্রাংগনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে,— কানাডা ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন “ গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক গভর্নেস “ , জেনেভা ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন “ ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ফর সেকুলার বাংলাদেশ “ এবং জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত ECOSOC organization « তুমুকু ডেভেলপমেন্ট এন্ড কালচারাল ইউনিয়ন « । ‘বাংলাদেশ: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং সকলের জন্য রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত কর’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশী ডায়াসপোরা ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি জমাদার নজরুল ইসলাম। মানবাধিকার কর্মী রহমান মামুনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন “ গ্লোবাল সেন্টার ফর ডেমোক্রেটিক সোসাইটির সম্মানিত সভাপতি- সাবেক সংসদ সদস্য ও বরেণ্য চিকিৎসক প্রফেসর ডাঃ হাবিবে মিল্লাত।
সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানান। বিশেষ করে সাংবাদিকসহ সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ওপর থেকে সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা (ব্যান) প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন,— আজাদ কাশ্মীর ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইউ কে পি এন পি নেতা সাজিদ হোসেন, শফিকুর রহমান, ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেস এর মানবাধিকার কর্মী হাফিজা বিদু, ও সুইজারল্যান্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান।
সমাবেশে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশে নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন, জেল জুলুম ও প্রহসন প্রতারণার নির্বাচনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান, জেনেভাস্হ মশিউর রহমান সুমন, মাসুম খান দুলাল, শামীম সিকদার, আকবর হোসেন, অরুন বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়া, নিপু বড়ুয়া, সসীম বড়ুয়া, ফুয়াদ হোসেন, সাজিয়া সুলতানা, ইটালি থেকে নিশান, লন্ডন থেকে আহসানুল হক সুবিন, প্যারিস থেকে তাপস বড়ুয়া, মায়া ও সুমন।

সমাবেশে প্রধান আলোচক প্রফেসর হাবিবে মিল্লাত তার বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন,- “ ৫ ই আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে, ইউনুস রেজিম ও ৭১ র পরাজিত শক্তির অশুভ দখলদার বাহিনীর নির্বিচারে হত্যা, রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র জনতার ও সকল শ্রেণী পেশার মানুষদের মবক্রেসী, হত্যাজজ্ঞ, ও বিনা বিচারে জেল জুলুম নির্যাতন, সমগ্র দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের চারন ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
ডা. হাবিবে মিল্লাত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জাতিসঙ্ঘ, মানবাধিকার কমিশন, কমনওয়েলথ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতি বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, সকল নির্দোষ নিরাপরাধ রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের, সাংবাদিক, লেখক, আইনজীবী, বিচারপতিদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দেশে অবাধ মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান জানান। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও জোরালো দাবি জানান তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে সভার সভাপতি জমাদার নজরুল ইসলাম, হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে যদি অনতিবিলম্বে সকল দলের সমান রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতন্ত্র নিশ্চিত করা না হয়, তবে প্রবাসীদের এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে। দ্রুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সকলের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।