জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে রাজধানী বার্লিনে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। বার্লিনের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পার্টির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই বিক্ষোভে প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ অংশ নেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণী।
বিক্ষোভকারীরা রক্ষণশীল রাজনীতিক মের্ৎসের বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গত সপ্তাহে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “অভিবাসী ও শরণার্থীরা জার্মান শহরগুলোর চেহারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।” ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পরও মের্ৎস সোমবার আবারও নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “আপনারা আপনাদের মেয়েদের জিজ্ঞেস করুন আমি কী বোঝাতে চেয়েছি।”
সমালোচকরা বলছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মের্ৎস আসলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে অভিবাসী পুরুষরা যৌন হয়রানি বা অপরাধে বেশি জড়িত— যা তথ্যপ্রমাণে সমর্থিত নয় এবং সরাসরি বর্ণবাদী ধারণাকে উসকে দেয়।
পরিবেশ আন্দোলনের নেত্রী লুইজা নয়বাউয়ার, যিনি এই বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজক, জনতার উদ্দেশে বলেন, “মের্ৎসের বক্তব্য শুধু বৈষম্যমূলক নয়, এটি আমাদের সমাজের অন্তর্ভুক্তিমূলক মূল্যবোধের পরিপন্থী।” ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, “আমরা এই দেশে প্রায় চার কোটি নারী। আমাদের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা যেন কোনও বর্ণবাদী বক্তব্যের অজুহাত না হয়।”
বিক্ষোভস্থলে উপস্থিতদের হাতে ছিল নানা স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড— “বর্ণবাদই শহরের আসল সমস্যা”, “রঙিন শহরের জন্য মেয়েরা একত্রিত”, এবং “আমরাই শহরের চেহারা”।
চ্যান্সেলর মের্ৎসের জোটসঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) তার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে। এসপিডির সংসদ সদস্য রালফ স্টেগনার জার্মান দৈনিক টাগেসস্পিগেল-কে বলেন, “চ্যান্সেলরের মন্তব্য সম্পূর্ণ ভুল বার্তা দিয়েছে। এটি ‘বিদেশিদের বের করে দাও’ মনোভাবকে উস্কে দিচ্ছে এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এ ধরনের মন্তব্য শুধু জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করছে না, বরং জোট সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।”
সূত্র: ডয়েচে ভেলে, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।