গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাবেন না— এমনটাই মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্বপালন করা সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লর্ড ম্যান্ডেলসন। তার মতে, ট্রাম্প রাজনৈতিক বক্তব্যে সরাসরি ও কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেও তিনি বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন এবং অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়ার মানুষ নন।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যান্ডেলসন বলেন, ট্রাম্প “মূর্খ নন” এবং তার উপদেষ্টারাও তাকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেবেন যে গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য শক্তি প্রয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কৌশলগত গুরুত্ব থাকলেও এমন পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে বলে তিনি মনে করেন।
ম্যান্ডেলসনের ভাষায়, ট্রাম্পের বক্তব্যে অনেক সময় কঠোরতা ও স্পষ্টতা থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি বাস্তবতা বিবেচনায় রাখেন। গ্রিনল্যান্ড দখলের মতো সামরিক উদ্যোগ নিলে তা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও গভীর সংকট তৈরি হবে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় নতুন করে গতি এসেছে। গত শনিবার ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া প্রয়োজন। তবে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড— উভয় পক্ষই সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অঞ্চলটি বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হয়, তবে তা ন্যাটো জোটের ভেতর গুরুতর সংকট সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চললেও বাস্তবে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।