গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মানবিক সংকট কমার বদলে আরও বাড়ছে। ইসরায়েল চুক্তি রক্ষা না করায় ত্রাণ সরবরাহ সীমিত হচ্ছে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস শনিবার জানিয়েছে, ১০ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে মাত্র ৩,২০৩টি বাণিজ্যিক ও ত্রাণ ট্রাক গাজায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১৪৫টি ট্রাক অনুমোদিত হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে নির্ধারিত দৈনিক ৬০০ ট্রাকের মাত্র ২৪ শতাংশ।
দুই বছরের সামরিক হামলায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা ধ্বংস হওয়ায় বহু পরিবার মাথা গোঁজার স্থান হারিয়েছে। সমগ্র গাজা খাদ্য, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সরবরাহের তীব্র ঘাটতির মুখোমুখি।
গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, বিমান হামলা ও ইসরায়েলি ড্রোনের কারণে হলুদ রেখার কাছাকাছি অঞ্চলগুলোতে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অভিযোগ করেছে, পরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ত্রাণ ও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বাধা দিচ্ছে। ফলে ২৪ লাখেরও বেশি মানুষের মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েল কর্তৃপক্ষের নির্দেশিত রুট পরিবর্তনের কারণে সাহায্য পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মানবিক সহায়তা পরিবহনে অতিরিক্ত ক্রসিং ও অভ্যন্তরীণ রুটের প্রয়োজন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২২২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৫৯৪ জন।
এদিকে ইসরায়েল নিহত বন্দীদের মরদেহ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ করেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। হামাস দাবি করছে, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য ভারী যন্ত্রপাতি ও বুলডোজার প্রবেশেও ইসরায়েল নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ফলে উদ্ধার প্রচেষ্টা কঠিন হয়ে পড়েছে।