বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসঙ্কেত। তিনি বলেন, “আমরা যদি এখনই ঐক্যবদ্ধ না হই, সতর্ক না থাকি—তবে অতীতের মতো আরেকটি ‘এক-এগারো’ পুনরাবৃত্তি অসম্ভব নয়।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীতে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির প্রতিপাদ্য ছিল—‘ফ্যাসিবাদ থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে আইনজীবীদের ভূমিকা’।
‘গণতন্ত্রের পথে ফের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে’
প্রস্তাবিত পিআর (প্রতিনিধিত্বের অনুপাতে) নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ‘জনবিচ্ছিন্ন ও বাস্তবতাবিবর্জিত’ আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই ব্যবস্থাটি সাধারণ মানুষ বুঝে না, এবং এটি বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে একটি গোষ্ঠী কখনোই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চায়নি। অতীতে যেমন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজও সেই মানসিকতা থেকেই গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।”
‘গণতন্ত্র মানে জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার’ : বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমরা উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা চাই জনগণ যেন তাদের প্রতিনিধি নিজেরাই নির্বাচন করতে পারে, স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। একটি কার্যকর সংসদ গঠিত হোক, সরকার কাজ করুক, আর ব্যর্থ হলে জনগণই তাদের বদলে দিক।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ে এত বিতর্কের কী দরকার?”
নির্বাচন বিলম্বে আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষতির আশঙ্কায় মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের আয়োজন আর পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। দেরি হলে শুধু অভ্যন্তরীণ সংকটই বাড়বে না, আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ব্যক্তির অবস্থানও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
‘আন্দোলনের জায়গা দখল করেছে ব্যক্তিস্বার্থ’ : বর্তমান রাজনীতিতে গণআন্দোলনের চেতনা লুপ্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। “জুলাই আন্দোলনের যে গণচেতনা ছিল, এখন তা আর দেখা যায় না। রাজনীতি এখন একতা নয়, ব্যক্তিস্বার্থের সংঘাতে পরিণত হয়েছে।”
তরুণদের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তারা এখন আন্দোলনের জন্য নয়, চাঁদার জন্য চিঠি দিচ্ছে যা মৌলিক চেতনা থেকে বিচ্যুতির প্রতিফলন।”