রাইসুল আলম রবিন ,খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) নতুন ময়ূরী আবাসিক এলাকার বালু ভরাটের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। গত ২৭ জানুয়ারি সড়ক, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের দরপত্র প্রকাশ করেছে কেডিএ। সব ঠিক থাকলে মার্চের মাসের শেষ দিকে এসব অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে।
এদিকে সময়মতো অবকাঠামোর কাজ শুরু এবং নির্দিষ্ট সময়ে সেই কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা। ইতোমধ্যে তৃতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা গ্রাহকরা এখন দিন গুনছেন প্লট বুঝে নেওয়ার।
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৯ বছর পর খুলনায় নতুন আবাসিক এলাকা তৈরির প্রকল্প হাতে নেয় সংস্থাটি। রূপসা সেতু বাইপাস সড়কের পশ্চিমপাশে ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার ৯০ একর জমিতে নতুন এই আবাসিক এলাকা তৈরি হচ্ছে। এই প্লট বিক্রির জন্য ২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট থেকে আবেদন বিক্রি শুরু করে কেডিএ। তারপরও প্রায় এক বছর পর ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর লটারির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে প্লটপ্রাপ্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ কিস্তির টাকা নিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্রটি জানায়, প্লট বরাদ্দের পরও বালু ভরাটের কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন গ্রাহকরা। এনিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের পর ২০১৮ সালের ২৯ মে থেকে বালু ভরাটের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৬ মাসের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করার কথা ছিলো। কিন্তু পুরোপুরি কাজ শেষ করতে না পারলেও ৮৫ ভাগ কাজ শেষ করেছে তারা।
সম্প্রতি সরেজমিন প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বালু ভরাটের কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকায় কৃত্রিম লেক তৈরি করা হয়েছে। সেই লেক মিশেছে কাদেরের খালের সঙ্গে। ভবিষ্যতে এই এলাকাটুকু বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অন্য এলাকায় বালু ভরাট হচ্ছে। দুটি ড্রেজার দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ফুট দূর থেকে বালু আনা হচ্ছে। ট্রাকে করেও বালু আসছে। তারপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারকে আরও একমাস সময় দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামান পূর্বাঞ্চলকে জানান, কিছু এলাকায় ৭/৮ ফুট, আবার কিছু এলাকায় ৫/৬ ফুট পর্যন্ত বালু ভরাট করা হয়েছে। আবাসিক এলাকার মাঝ দিয়ে বিনোদনে জন্য এক প্রশস্ত কৃত্রিম লেক তৈরি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ভবিষ্যতে বেইলী ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। লেকের পাশে দেড় মিটার চওড়া ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।
কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ আরমান হোসেস পূর্বাঞ্চলকে বলেন, বালু ভরাটের কাজ শেষ হওয়ায় অবকাঠামো নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি ই-জিপিতে এই দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রকল্প এলাকায় ৩০ ফুট থেকে ২২০ ফুট পর্যন্ত চওড়া ৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে, এছাড়া ভেতরে ১৮ কিলোমিটার ছোট-বড় ড্রেন এবং কিছু কালভার্ট ও বেইলী ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক ও কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম বলেন, মার্চের শেষেই এসব কাজ শুরু হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে। অতীতের যতোগুলো আবাসিক এলাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিলো, এর মধ্যে সব চেয়ে দ্রুত হস্তান্তর হবে ময়ূরী আবাসিকের প্লট।