মোস্তাক আহমেদ, কলারোয়া: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কপোতাক্ষ নদের তীরে জমে উঠেছে খেঁজুর গুড়ের হাট। সপ্তাহে দুই দিন (বৃহস্পতিবার ও রবিবার) উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের খোরদো বাজার সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের তীরে প্রায় ৫৫ গ্রামের খেজুর গাছ চাষীদের এ গুড় ও পাটালীর জমজমাট হাট বসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারী ব্যাবসায়ীদের আগমন ও শীত মৌসুমে উপজেলার অন্যতম প্রধান এ খেঁজুর গুড়ের হাটের আকর্ষন আরো বেড়ে গেছে। খেঁজুর গাছের রস জ্বালিয়ে গুড় ও পাটালী তৈরির কাছে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রান্তিক খেঁজুর গাছ চাষীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর গাছীরা (খেজুর গাছ চাষী) খেজুরের রস বিক্রি না করে কিছু বেশী লাভের জন্য গুড় ও পাটালী তৈরী করছে। সে জন্য গত ২/৩ দিন বছর পর খোরদো বাজার সংলগ্ন এলাকায় খেঁজুর গুড়ের হাট জমে উঠেছে। এছাড়া এখানকার গুড় বা পাটালী স্বু-স্বাদু হওয়ায় বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা কলারোয়ার এই বাজার থেকে খেঁজুরের গুড় ও পাটালী ক্রয় করতে আসায় জমে উঠেছে খেঁজুরের গুড় ও পাটালীর হাটটি।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, এখানে কলারোয়া উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলা থেকেও খেঁজুর চাষীরা গুড় ও পাটালী বিক্রি করতে আসে। যার কারনে এটি একটি বড় পাইকারী বাজারে পরিনত হয়েছে।
হাটে গুড় বিক্রি করতে আসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের নাসির শেখ (খেঁজুর গাছ চাষী) জানান, এলাকায় ব্যপক হারে খেঁজুর গাছ কেটে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন আগের মতো খেঁজুর গাছ নেই। গত বছরের ন্যায় এবছরও আমরা এ বছর একটু লাভের জন্য রস বিক্রি না করে গুড় ও পাটালী তৈরীর কাজ করছি। দেশের অন্য স্থান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসে মাল ক্রয় করছে। সে কারনে কষ্ট এবং জ্বালানি খরচ বাদে কিছুটা লাভ হবে বলে তিনি জানান।
মনিরামপুর উপজেলার চাকলা গ্রামের পাটালী বিক্রেতা আব্দুল আলীম জানান, এ বছর হাটে খেঁজুরের গুড় ও পাটালীর পরিমান বেশী হওয়ায় বাইরে থেকে আসা ব্যাপারিরা গুড়ের দাম কিছুটা কম বলছে। তবে আরো বেশি পাইকারী ব্যবসায়ী বাজারে আসলে দাম বেশি হবে বলে তিনি জানান।
যশোর বাগয়াচাড়া এলাকার পাইকারী গুড় ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর হাটে গুড়ের দাম কিছু বেশি নেয়া হচ্ছে। গত বছর যে গুড়ের ভাড় (মাটির পাত্র) ছিলো ৪শ’ টাকা, কিন্তু এ বছর সেই গুড়ের ভাড় সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরাও একটু লাভের জন্য এখানে গুড় ও পাটালী কিনতে আসি। তবে কলারোয়ার খেঁজুরের গুড় ও পাটালীর মান অনেক ভালো বলে তিনি জানান।
বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, এই হাট থেকে আমরা ভাড় ভর্তি গুড় কিনে নিজ এলাকায়সহ দেশের বিভিন্ন জেলা সদরে নিয়ে যায়। তারা বলেন, এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এসব গুড় বা পাটালী কিনে দ্রুত বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে পারছি।
উপজেলার খোরদো বাজার ব্যবাসায়ী সমিতির নেতারা জানান, খেঁজুরের গুড়ের হাটে বরিশাল, পটুয়াখালী থেকে ৪/৫ জন এবং উপজেলার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে আসা গুড়ের ব্যাপারিরা প্রতিনিয়ত খোরদো বাজারের গুড়ের হাট থেকে পাইকারী দামে গুড় ও পাটালি কিনে অন্যত্র বিক্রি করছে। তবে গুড় ও পাটালীর হাটের পরিবেশ ভালো রাখার জন্য আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।