গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ
রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আতাউর রহমান ভূঞা আমৃত্যু যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, জাতি বহু বছর তা স্মরণ করবে। নিজকর্মগুণে সর্বসাধারণের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এক ব্যক্তিত্ব।
প্রগতিশীল রাজনীতিদি, শিক্ষকনেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আতাউর রহমান ভূঞাকে নিয়ে রচিত গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও নার নেত্রীসহ রাষ্ট্র ও সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরা এসব মন্তব্য করেন।
‘শিক্ষকনেতা ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আতাউর রহমান ভুঞা’ গ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
সম্মানিত আলোচক ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঐক্য ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর, বিশিষ্ট নারীনেত্রী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ, বাংলা ভিশনের হেড অফ নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রয়াত আতাউর রহমান ভুঞার জামাতা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট) নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রিয়াজ হাসান খন্দকার।
আতাউর রহমান ভুঞাকে নিয়ে এ ধরনের গ্রন্থ রচনার সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন গ্রন্থটির লেখক রঞ্জিত কুমার সাহা।
এছাড়া গ্রন্থটির প্রকাশক নিখিলচন্দ্র শীল অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
প্রয়াত আতাউর রহমানের স্মৃতির প্রতি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রবিরশ্মি’র শিল্পীদের সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রকাশনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়।
অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটে দেশপাগল হিসেবে। প্রয়াত আতাউর রহমান ভুঞা তেমনই একজন ছিলেন; যিনি দেশের স্বার্থেই আজীবন নিজেকে নিয়োজিত রেখে গেছেন। আলোচ্য গ্রন্থটি নতুন প্রজন্মের মাঝে তাঁর চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ।
বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নে আতাউর রহমান ছিলেন আপোসহীন। তরুণ সমাজকে ন্যায়ের পথে পরিচালনার ক্ষেত্রে এক অসম্ভব দক্ষতা ছিল তাঁর।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সেলিম আরো বলেন, দেশ ও দেশের জনগণের বিশেষ করে সমাজের অধিকারবঞ্চিত মানুষের স্বার্থে আতাউর রহমান নিজে যা বিশ^াস করতেন, সেখানেই অটল থাকতেন। তাঁর জীবনাচার নিয়ে রচিত গ্রন্থটি ছাত্র ও তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক এই ভিপি।
এ্যাডভোকেট এস এম এ সবুর বলেন, আতাউর রহমান ছাত্রজীবন থেকে সাম্প্রদায়িকতা, শোষণ-বঞ্চণা ও জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করে গেছেন। যে রাজনৈতিক দর্শনে বিশ^াসী হয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন, মৃত্যুশয্যায়ও তা হৃদয়ে লালন করে গেছেন।
‘শিক্ষকনেতা-রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আতাউর রহমান ভূঞা’ গ্রন্থটির লেখক ও প্রকাশককে ধন্যবাদ জানান।
প্রয়াত আতাউর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নারী অধিকার রক্ষার আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, তিনি ছিলেন সমাজের আলোকবর্তিকাবাহী এক অক্লান্ত সৈনিক। তাঁকে নিয়ে রচিত গ্রন্থটি ছাত্র ও যুব সমাজের জন্য অত্যন্ত যুগোপযোগী।
শিক্ষকনেতা অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, শিক্ষক আন্দোলনে আতাউর রহমানের অসামান্য অবদান এ দেশের শিক্ষক সমাজ কখেেনা ভুলতে পারবে না। মৃত্যুর পর তাঁর অনুপস্থিতি আমরা গভীরভাবে অনুভব করছি।