অস্ট্রিয়ার মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ তুষারধসে তিন চেক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে শনিবার দেশটির আল্পস পর্বতমালায় তুষারধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটজনে। গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া টানা ভারি তুষারপাতের পর আল্পসজুড়ে একের পর এক তুষারধসের ঘটনায় প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা ঘটছে।
পুলিশ জানায়, স্টাইরিয়া প্রদেশের মুর্তাল জেলায় স্কিইং করতে আসা সাতজন চেক পর্যটকের একটি দল তুষারধসের কবলে পড়ে। এ সময় তিনজন পুরোপুরি বরফের নিচে চাপা পড়েন। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালালেও শেষ পর্যন্ত তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনজনকেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
একই দিনে সালজবার্গের কাছে পোঙ্গাউ এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে সাতজন অফ-পিস্ট স্কিয়ার তুষারধসে আটকা পড়েন। এতে চারজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া একই এলাকায় পৃথক আরেকটি তুষারধসে একজন অফ-পিস্ট স্কিয়ার ভেসে যান বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।
পঙ্গাউ পর্বত উদ্ধার পরিষেবার প্রধান গেরহার্ড ক্রেমসারক বলেন, “আজ অসংখ্য তুষারধসের ঘটনা ঘটেছে। বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাণহানি এড়ানো যায়নি।” তিনি আরও জানান, চলমান তুষারধস পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এই ট্র্যাজেডিগুলো পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
এর আগেও চলতি সপ্তাহে অস্ট্রিয়ান আল্পসে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার আল্পাইন রিসোর্ট ব্যাড গ্যাস্টেইনে অফ-পিস্ট স্কিইংয়ের সময় তুষারধসে ১৩ বছর বয়সী এক চেক কিশোরের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি গত রবিবার পশ্চিম অস্ট্রিয়ার টাইরোল অঞ্চলের ওয়েয়ারবার্গ রিসোর্টে তুষারধসে ৫৮ বছর বয়সী এক স্কি পর্যটক প্রাণ হারান।
ক্রমবর্ধমান প্রাণহানির ঘটনায় কর্তৃপক্ষ অফ-পিস্ট স্কিইং এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ।