সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর লিখিত পরীক্ষার তারিখ ও পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২ জানুয়ারি দেশের সব জেলায় একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে পার্বত্য তিন জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই পরীক্ষার বাইরে থাকবে।
পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। দুই ধাপে আবেদন করা সব প্রার্থীরই লিখিত পরীক্ষা একই দিনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
ডিপিই সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ হাজার ২১৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১ জন প্রার্থী। দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রায় ৭৫ জন পরীক্ষার্থী।
এদিকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সকাল ৯টার মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আসন গ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এরপর কোনো প্রার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
কেন্দ্রে প্রবেশের সময় নারী ও পুরুষ পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে তল্লাশি করা হবে। প্রয়োজনে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করা হবে। ব্লুটুথ বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্তের জন্য পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে। কানে কোনো ‘স্পাইক ইয়ারফোন’ আছে কি না, তা প্রয়োজনে টর্চলাইটের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, যে কোনো ধরনের ঘড়ি, ভ্যানিটি ব্যাগ, পার্স বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব নিষিদ্ধ সামগ্রী সঙ্গে পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের একটি ওএমআর শিট দেওয়া হবে, যা শুধুমাত্র কালো বলপয়েন্ট কলম দিয়ে পূরণ করতে হবে। পেনসিল ব্যবহার করলে উত্তরপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র উভয়ই পরিদর্শকের কাছে জমা দিতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই প্রশ্নপত্র সঙ্গে নেওয়া যাবে না।
এ ছাড়া পরীক্ষার দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সার্বিকভাবে পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। ভুয়া পরীক্ষার্থী বা অসদুপায় অবলম্বনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করা হবে বলেও জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।