শিরোনাম :
আদিবাসী তরুণদের গবেষণায় উঠে এলো পানি সংকট ও প্রাকৃতিক সম্পদ হ্রাসের চিত্র নজরুলকে স্মরণে ছায়ানটে সাংস্কৃতিক আয়োজন পর্যটক টানতে ৪০ দেশের জন্য ভিসা ফ্রি করল শ্রীলঙ্কা সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের বৈঠক চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাক্ষাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নৈতিকতা ও অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দিল ইউনেস্কো নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বকাপে মেক্সিকোতেই থাকবে ইরান দল ঈদের সার্বিক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক তদারকিতে কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হজের প্রথমদিন, লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মিনার প্রান্তর

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা: জাতিসংঘ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক

 

২৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের নামে অপ্রয়োজনীয় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে।

ভলকার টুর্ক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কেবল অনিবন্ধিত অভিবাসী হওয়ার সন্দেহের ভিত্তিতেই মানুষকে নজরদারি ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। হাসপাতাল, গির্জা, মসজিদ, আদালত, বাজার, স্কুল এমনকি নিজ নিজ বাড়িতেও সহিংস অভিযান চালানোর অভিযোগ উঠেছে, যা মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মিনিয়াপোলিস শহরে প্রায় তিন হাজার ভারী অস্ত্রধারী ও মুখোশধারী ফেডারেল কর্মকর্তাকে মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, বিপজ্জনক অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের আটক করতেই এ অভিযান। তবে বাস্তবে এতে আইন মেনে চলা মার্কিন নাগরিক ও বৈধ অভিবাসীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড (৩৭) নামে এক মার্কিন নাগরিক ও তিন সন্তানের জননী নিহত হওয়ার পর শহরজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরিস্থিতির জন্য “চরম বামপন্থী উসকানিদাতা” এবং স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতাকে দায়ী করে অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেন।

ভলকার টুর্ক অভিযোগ করেন, মার্কিন অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি তাৎক্ষণিকভাবে জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি না করেন, তাহলে এমন শক্তি প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিবাসন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া বা ‘ডিউ প্রসেস’ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিদের অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান। তার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে আইসিই হেফাজতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত আরও ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের জোর দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়মিত অবমাননা ও নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের প্রবণতার তীব্র নিন্দা জানান টুর্ক। তার ভাষায়, অভিবাসীদের অপরাধী বা সমাজের ওপর বোঝা হিসেবে চিত্রিত করা তাদের বিরুদ্ধে জেনোফোবিক শত্রুতা ও নির্যাতনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: আরব নিউজ।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

©germanbanglanews24
Developer Design Host BD