সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভেতরে প্রতিযোগিতা ও তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। কয়েক দিনের মধ্যেই দলটির কাছে জমা পড়েছে পাঁচ শতাধিক আবেদন, যা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আবেদনকারীরা কোনো নির্দিষ্ট ফরম ছাড়াই নিজেদের রাজনৈতিক জীবন, সাংগঠনিক ভূমিকা ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিবরণ তুলে ধরেছেন। অনেকেই জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে দলীয় কার্যক্রমের ছবি সংযুক্ত করে নিজেদের সক্রিয়তা প্রমাণের চেষ্টা করেছেন।
দলীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে এবং সেগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণে দলীয় হাইকমান্ডই মূল ভূমিকা রাখবে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীরা শুধু আনুষ্ঠানিক আবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না; তারা বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সমর্থন আদায় এবং সুপারিশ সংগ্রহের চেষ্টাও চলছে জোরেশোরে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা বাড়িয়ে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মহিলা দল ও ছাত্রদলের সাবেক নেত্রীরা এ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
এদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। দলটির মহাসচিব জানিয়েছেন, ঈদের পর মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পাওয়ায় সংরক্ষিত আসনের বড় অংশ তাদের দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় হাতে থাকায় মনোনয়ন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তেমন তাড়াহুড়ো নেই, তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে।