বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আবারও বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৪৭, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা পিএম ২.৫। আজকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকার বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মানদণ্ডের তুলনায় প্রায় ৩৫ গুণ বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাত্রার দূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
রাজধানীর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত এলাকা হিসেবে উঠে এসেছে মিরপুরের পল্লবী। সেখানে বায়ুমান সূচক ছিল প্রায় ৩০০-এর কাছাকাছি, যেখানে ৩০১ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলা হয়। তালিকায় পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে গোড়ান (২৮২), মাদানি সরণির বেজ এজওয়াটার (২৬০), মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং (২৫৯), গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (২৩৪) ও কল্যাণপুর (২০৭)। এসব এলাকাতেই বায়ুর মান রয়েছে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে।
আইকিউএয়ারের বিশ্ব তালিকা অনুযায়ী, শনিবার সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল মিসরের কায়রো, যার স্কোর ৩০০। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি (২৫৯)। এরপর চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে উজবেকিস্তানের তাশখন্ত (২৪২), ভারতের কলকাতা (২২২) ও পাকিস্তানের লাহোর (২১৪)। এসব শহরের বায়ুমানও ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
একিউআই মানদণ্ডে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয় এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সূচক অনুযায়ী ঢাকা বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
বায়ুদূষণের এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজের ধুলা ব্যবস্থাপনা, যানবাহনের নির্গমন কমানো ও বর্জ্য পোড়ানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি দূষণ কমাতে সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।