আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্নভাবে নারী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগণের উপর হত্যা, নির্যাতন, হুমকি, হেনস্থার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।
এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, তারা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনের তারিখ যতই ঘনিয়ে আসছে ততোই নারী এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণের উপর হত্যা, হুমকি, হেনস্থা এবং নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর থেকে প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারাও বাদ যাচ্ছেন না।
খোকন দাস, অমৃত মন্ডলের নির্মম হত্যাকান্ডের পরে সাম্প্রতিক সময়ে তারা লক্ষ্য করছে যে, দলীয় প্রতীকে ভোট না দিলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণকে দেশ থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, একজন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জেলা প্রশাসককে তার দায়িত্ব পালনে অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে নানাভাবে অপমান ও হেনস্থা করা হচ্ছে, যা সকল দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের জন্য একটি নেতিবাচক বার্তা।
এছাড়াও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে ধর্ষণ করে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। নরসিংদীর পলাশে গতকাল রাতে মনি চক্রবর্তী নামক একজন মুদীর দোকানদারকে খুন করা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে এবং এসময় বাড়ির নারী সদস্যের সাথে অশালীন আচরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই সকল ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত এবং এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সকল জনগণের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সকল জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এই ধরনের অপতৎপরতা বন্ধে সরকার, নির্বাচন কমিশন, সকল রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।