ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ দল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারতে দল পাঠানো সম্ভব নয় বলে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে বিসিবির ১৭ জন বোর্ড পরিচালকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগের দিন শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাতেও অনলাইনে বৈঠকে বসেছিলেন বিসিবি পরিচালকেরা। তখন অধিকাংশ পরিচালক কঠোর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও পরবর্তীতে সরকারের হস্তক্ষেপের পর বোর্ডের অবস্থানে পরিবর্তন আসে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন,
“কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব।”
বিসিবির উদ্বেগের পেছনে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং জাতীয় দলের তারকা বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে বিসিবির শঙ্কা বেড়ে যায়।
এই প্রেক্ষাপটে বিসিবি আইসিসিকে পাঠানো এক ই-মেইলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে,
“নিরাপত্তার শঙ্কার কারণে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল পাঠানো সম্ভব নয়।”
একই সঙ্গে প্রয়োজনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদনও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিন ভারতের কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বের বাকি তিনটি ম্যাচও হওয়ার কথা ছিল কলকাতা ও মুম্বাইয়ে।
এর মধ্যেই রোববার সকালে লিটন দাসকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।