শিরোনাম :
জার্মানিতে পালিত হচ্ছে বাবা দিবস : ফাট্যারটাগ উৎসব, বন্ধুত্ব আর ঐতিহ্যের অনন্য মিলন মণিপুরে গির্জার নেতাদের গাড়িবহরে হামলায় নিহত চার্চ নেতারা গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনে অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সফল সমন্বয় সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বৈশ্বিক সংলাপে চীন-ইউনেস্কো সহযোগিতা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহারে চার দফা প্রস্তাব চীন-মার্কিন শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে বাড়ছে বৈশ্বিক প্রত্যাশা নাহিদ ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশের বড় জয় একনেকে অনুমোদন পেল ৩৬ হাজার কোটি টাকার ৯ উন্নয়ন প্রকল্প প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই

জার্মান-বাংলা ডেস্ক :
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় তিনি ইন্তেকাল করেন ।

বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ এবং দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মৃত্যু সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন ।

মৃত্যুর সময় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর পাশে ছিলেন জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের স্ত্রী শামিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন ।

দীর্ঘদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়া হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও শারীরিক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি ।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান। নির্বাচনী রাজনীতিতে তিনি একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী—কখনো কোনো সংসদীয় নির্বাচনে পরাজিত হননি। পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবগুলোতেই বিজয়ী হন তিনি ।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় তাঁর জন্ম। পড়াশোনা করেন দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। ১৯৬০ সালে তিনি তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির সংকটময় সময়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন ।

এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর নেতৃত্ব ছিল নির্ণায়ক। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, গ্রেপ্তার, কারাবাস ও মামলা মোকদ্দমার মধ্যেও তিনি তাঁর অবস্থান থেকে সরে যাননি ।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীনতা, দৃঢ়তা ও সংগ্রামের প্রতীক। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে এক অধ্যায়ের অবসান হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD