শিরোনাম :
জার্মানিতে পালিত হচ্ছে বাবা দিবস : ফাট্যারটাগ উৎসব, বন্ধুত্ব আর ঐতিহ্যের অনন্য মিলন মণিপুরে গির্জার নেতাদের গাড়িবহরে হামলায় নিহত চার্চ নেতারা গ্রামীণ পুনরুজ্জীবনে অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সফল সমন্বয় সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বৈশ্বিক সংলাপে চীন-ইউনেস্কো সহযোগিতা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহারে চার দফা প্রস্তাব চীন-মার্কিন শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে বাড়ছে বৈশ্বিক প্রত্যাশা নাহিদ ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান, বাংলাদেশের বড় জয় একনেকে অনুমোদন পেল ৩৬ হাজার কোটি টাকার ৯ উন্নয়ন প্রকল্প প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করতে সরকার-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লার নাগরিক সেবায় নতুন অধ্যায়: গঠিত হচ্ছে ওয়াসা

গত ১০ মাসে সাংবাদিক নিপীড়নের দায় সরকারের: গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন না করায় গত ১০ মাসে সারা দেশে সংঘটিত সাংবাদিক নিপীড়নের দায় সম্পূর্ণভাবে সরকারের ওপর বর্তায়—এমন মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে যেসব সাংবাদিক দেশের বিভিন্ন স্থানে লাঞ্ছনা ও হামলার শিকার হয়েছেন, তার দায়দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যম সংস্কার: বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে এসব কথা বলেন তিনি। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এ সংলাপে দেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

কামাল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের একটি খসড়া প্রস্তুত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছিল। তবে কেন সেই খসড়া আইন চূড়ান্ত করা হয়নি, সে ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার ফলেই সাংবাদিকরা আজ অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন।

কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,
“আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম। তার ঠিক ৮ মাস ২৮ দিন পর যে ভবনে আমি চাকরি করি—ডেইলি স্টার ভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২৮ জন সংবাদকর্মীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। দমকল বাহিনী উদ্ধার করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়।”

তিনি আরও বলেন, গত ১০ মাসে সারা দেশে সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে, অনেক সাংবাদিক প্রাণও হারিয়েছেন। এসব ঘটনার সম্পূর্ণ দায় সরকারের বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের ওপর বাড়তে থাকা হুমকির প্রসঙ্গে কামাল আহমেদ বলেন,
“সরকারের পক্ষ থেকে হয়তো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু মবের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর এই মবকে প্রশ্রয় দিয়েছে সরকার। ফলে এই দায়ও সরকারের।”

গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“ঘটনাটি যদি কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটত, তাহলে আমিও সেই পরিণতির মধ্যে পড়তাম।” সরকারের এমন অসহায়ত্ব কেন—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উসকানি ও হুমকির বিষয়ে কামাল আহমেদ বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নির্দেশ দেয়নি। বরং ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কিছু ব্যক্তির বক্তব্য সাংবাদিকদের হত্যাযোগ্য করে তুলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান, জি-৯–এর সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কাজী জেসিন, ইরাবতীর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মো. মুক্তাদির রশীদ, এনএইচকে টিভির বাংলাদেশ প্রতিনিধি পারভীন এফ চৌধুরীসহ গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD