মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি উভচর অ্যাসল্ট জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের মুখে পড়ে এলএইচএ-৭ যুদ্ধজাহাজটি অবস্থান পরিবর্তন করে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের গভীরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, জাহাজটিতে বিপুলসংখ্যক নাবিক ও মেরিন সদস্য মোতায়েন ছিল এবং এটি আকাশপথে অভিযানের জন্য হেলিকপ্টার বহনে সক্ষম। হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
ইরানি সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক-শিল্প অবকাঠামো, কমান্ড ও রসদ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি একটি কার্গো জাহাজ লক্ষ্য করে আক্রমণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত অঞ্চলে যৌথ ড্রোন স্থাপনা এবং একটি বিমানঘাঁটিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে প্রতিপক্ষের যেকোনো তৎপরতা নজরদারির আওতায় রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি ও সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।