রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সোমবার একনেক সভা-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, সব না হলেও অধিকাংশ মৌলিক সংস্কারই নতুন সরকার গ্রহণ করতে পারে। কারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এমন সংসদই আসল চাহিদা ও অগ্রাধিকার সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে।
বাতিল হওয়া প্রকল্প প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, প্রকল্পে বিভিন্ন সময় ত্রুটি থাকে এবং অনেক সময়ে গণমাধ্যমের খবর পুরোপুরি নির্ভুল নাও হতে পারে। তাই সংবেদনশীলতা বিবেচনায় প্রকল্পগুলো আবারও যাচাই করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রকল্পে কম্পিউটারের দাম বেশি দেখানোর অভিযোগ নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে শুধু যন্ত্রপাতির মূল্য দেখলে বিভ্রান্তি হতে পারে। প্রকল্পের অটোমেশন ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে ধরলে মোট খরচের কাঠামো ভিন্ন হয়।
বিবিএস সংস্কারের বিষয়ে তিনি জানান, নতুন নীতিমালা সহজ করা হয়েছে এবং সেটি ইতোমধ্যে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি স্বাধীনভাবে সব তথ্য প্রকাশ করতে পারবে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এত বেশি অধ্যাদেশ প্রণীত হওয়ায় নতুন সংসদে সবকিছু ফের পর্যালোচনার মুখে পড়বে। যেগুলো তাদের প্রয়োজনীয় মনে হবে সেগুলো থাকবে, বাকিগুলো বাদ পড়তে পারে।
পিপিআর বা সরকারি ক্রয় নীতিমালাকে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করেন। এটি এখন এমনভাবে বই আকারে প্রকাশিত ও ডিজিটালাইজড হয়েছে, যা সহজে পরিবর্তন করার সুযোগ সীমিত করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নীতিমালা আইন হিসেবে বহাল থাকবে।
বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক সংস্কার প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যে অধ্যাদেশ হয়েছে, তা নতুন সরকার আবার পরীক্ষা করে দেখতে পারে। কারণ এতে ম্যাজিস্ট্রেটদের অনেক ক্ষমতা আর আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে নেই, যা কিছু ক্ষেত্রে অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে।
তফসিল ঘোষণার পরও একনেক সভা হওয়া নিয়ে তিনি বলেন যে নতুন বা চলমান — সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পই স্বাভাবিকভাবে চলবে। প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় (১৯৯৬) তার দায়িত্ব পালনকালে একই প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু তখনও একনেকের কার্যক্রম চলমান ছিল। শুধু নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কোনো নির্দিষ্ট আসনের সুবিধা দেওয়ার মতো প্রকল্প গ্রহণ না করার বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে হয়।
তিনি জানান, সাধারণ সময়ে প্রকল্প চাইতে রাজনৈতিক চাপ বেশি থাকে, তবে এবার সে ধরনের চাপ ছিল সীমিত। তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, অনুরোধ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবুও তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে কোনো আসনভিত্তিক সুবিধার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হবে না।
শেষে তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচন সামনে আসায় এখন সংবাদমাধ্যমের ফোকাস স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের দিকে সরে যাবে। এ অবস্থায় কোন দল খবরের পরিসরে কতটা সময় পাচ্ছে, সে হিসাব রাখা জরুরি, যাতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ না ওঠে।