ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় করা প্ররোচনার মামলায় তার মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ওবায়দুর রহমানকে আদালতে হাজির করে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় ওবায়দুর রহমানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওবায়দুর রহমানের পক্ষে আদালতে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনার পর একই রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ ওই রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলা হওয়ার পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে ওই রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলাম বর্তমানে চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামির মধ্যে ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে ডিবি। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।