শিরোনাম :
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার সূচনা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ডিআর কঙ্গোয় ইবোলা বিস্তার রোধে কাজ করবে চিকিৎসক দল এআই, সবুজ উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখছে লন্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬৫ বছর পূর্তিতে চীন-লাওস সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার পল্লবীর আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলা: রায়ের অপেক্ষা শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে একই নীতিমালার আওতায় আনা হচ্ছে :ববি হাজ্জাজ বার্লিন দূতাবাসে অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কে কাউন্সেলর তানভীর কবির ভালোবাসা, মর্যাদা ও বৈচিত্র্যের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা প্রাইড ২০২৬

বার্লিন দূতাবাসে অনিয়মের অভিযোগে বিতর্কে কাউন্সেলর তানভীর কবির

দেলওয়ার জাহিদ বিপ্লব :
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

তানভীর কবির

জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে দায়িত্ব পালনরত কাউন্সেলর (প্রজেক্ট) তানভীর কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশ অমান্য, আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে ঘিরে কূটনৈতিক মহল ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে বার্লিন মিশনে কর্মরত তানভীর কবির ২০২৫ সালের মার্চে তৎকালীন রাষ্ট্রদূতের বদলির পর দূতালয় প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি অংশও তার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কূটনীতিক সাধারণত একটি মিশনে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। সে হিসাবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

একই বছরের নভেম্বরে তাকে পাকিস্তানের করাচিতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে বার্লিনেই অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় পুনরায় নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তার অবস্থান বজায় রাখতে প্রভাবশালী কিছু মহলের সহায়তা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং মন্ত্রণালয়ের ভেতরের কিছু যোগাযোগের কারণে তিনি এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে।

আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ২০২২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতির জার্মানি সফর স্থগিত হওয়ার পর গাড়ি ভাড়া ও হোটেল বুকিংসংক্রান্ত একটি মামলায় দূতাবাস আদালতে পরাজিত হয়। যদিও উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ ছিল, নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় রাষ্ট্রীয় অর্থ ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে সুদ ও আইনি ব্যয়সহ অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া আদালতে আপিল করা, পরে তা প্রত্যাহার করা এবং বিভিন্ন খাতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগও রয়েছে। ব্যাংকিং লেনদেন ও দূতাবাসের নির্মাণ প্রকল্প ব্যবস্থাপনাতেও অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে, যার ফলে অতিরিক্ত ব্যয় ও সম্ভাব্য অডিট আপত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কূটনৈতিক আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, বিভাজন সৃষ্টি, হুমকি প্রদান এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক বইমেলায় এক জার্মান নারী কর্মচারীকে প্রকাশ্যে অপমান করার ঘটনাও সমালোচনার জন্ম দেয়।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD