বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ঝুকি বাড়ছে এবং জ্বালানি বাজারে দেখা যাচ্ছে তীব্র অস্থিতিশীলতা। এমন প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে ভালো পূর্বাভাস হবে, অর্থনীতির পতনের গতি হ্রাস পাওয়া এবং অস্থিতিশীলতায় স্থিতিশীলতা খুঁজে পাওয়া। চীনের পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার প্রথম বছরের প্রথম পান্তিকে, চীনের অর্থনীতির অবস্থা ঠিক এমন পূর্বাভাসের প্রতিফলন। চায়না মিডিয়া গ্রুপের সিজিটিএন বিশ্বের নেটিজেনের মধ্যে সম্প্রতি একটি জরিপ পরিচালনা করে। এর মধ্যে ৮৯.৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, অস্থিতিশীল যুগে চীনের স্থিতিশীলতা আরও মূল্যবান।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি হার ৫ শতাংশ হয়, যা বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩.১ শতাংশে নামিয়ে দিয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৯.৮ শতাংশ মনে করেন, এই তুলনা আরও স্পষ্টভাবে চীনের অর্থনীতির শক্তিশালী স্থিতিস্থাপকতা তুলে ধরে। ৭৯.৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, চীন এই বিশাল আকারের অর্থনীতির স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অনিশ্চয়তায় ভরা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি স্থিতিশীল শক্তি হয়ে উঠেছে। বিস্তারিত অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের সেবা খাতে খুচরা বিক্রয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামাজিক ভোগ্যপণ্যের খুচরা বিক্রয়ের মোট পরিমাণ ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপে ৮৬.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, ভিসা-মুক্ত নীতি, সেবা ভোগ খাতের উন্নয়ন, এবং ভোগের বিস্তারের মতো বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে, চীনের ভোক্তা-বাজারের সম্ভাবনা দ্রুত উন্মুক্ত হচ্ছে। ৮৪.৩ শতাংশ উত্তরদাতা উল্লেখ করেছেন যে, চীনের অর্থনীতি বিনিয়োগ ও রপ্তানি নির্ভরতা থেকে ধীরে ধীরে ভোগ, উদ্ভাবন এবং সেবা-নির্ভর বহুমুখী কাঠামোর দিকে রূপান্তরিত হচ্ছে।
এদিকে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের সরঞ্জাম নির্মাণ শিল্প এবং উচ্চ-প্রযুক্তি উত্পাদন শিল্পের অংশ যথাক্রমে নির্ধারিত আকারের শিল্প সংযোজন মূল্যে ১.৪ ও ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর উচ্চ-প্রযুক্তি উত্পাদন শিল্পের অবদান মোট শিল্প প্রবৃদ্ধির ৩২.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে ৮৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ইতোমধ্যেই চীনের উচ্চমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে এবং বাস্তব অর্থনীতির ভিত্তি ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে, যা চীনের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস আরও স্থিতিশীল করেছে। উল্লেখ্য, প্রথম প্রান্তিকে চীনের আমদানি -রপ্তানির মোট পরিমাণ ১১ ট্রিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।
পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা শুরুর পর থেকে, চীন আন্তর্জাতিক ভোক্তাপণ্য মেলা, ক্যান্টন ফেয়ারসহ বিভিন্ন প্রদর্শনী বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ‘চীনা কারখানা’ ধীরে ধীরে ‘বিশ্ববাজার’-এ রূপান্তরিত হচ্ছে। উত্তরদাতারা সরাসরি বলেছেন, চীনের অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি উচ্চ পর্যায়ের উন্মুক্ততা অব্যাহতভাবে সম্প্রসারণের ফল। ৮১.২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যে সংরক্ষণবাদ ও একতরফাবাদের আধিপত্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, চীনা বাজার শক্তিশালী প্রতিযোগিতা ও অপরিবর্তনীয় গুরুত্ব প্রদর্শন করেছে। ৮৫.১ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের নিজ নিজ দেশের সাথে চীনের ব্যাপক অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সমর্থন করেছেন। এই জরিপটি সিজিটিএনের ইংরেজি, ফরাসি, আরবি এবং রুশ প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোট ৫২৪২ জন নেটিজেন এতে অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। সূত্র: শিশির-আলিম-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।