দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক পথপরিক্রমা পেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি-পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতার খুব কাছে পৌঁছে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা দেশের অধিকাংশ আসনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছেন। ২৯৯টি আসনের মধ্যে ঘোষিত ও অনানুষ্ঠানিক তথ্য মিলিয়ে বিএনপি প্রার্থীরা এখন পর্যন্ত ২০৩টি আসনে এগিয়ে বা বিজয়ী বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭০টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ১৪টি আসনে বিজয় লাভের তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি আসনে এখনও গণনা ও ফলপ্রকাশ চলমান।
ঢাকা-১৭ এবং বগুড়া-৬—উভয় আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই প্রথম তিনি জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হন এবং দুই আসনেই জয়ের ধারা নিশ্চিত করেন। ঢাকা-১৫-এ জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সর্বশেষ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে। পাঁচ বছর মেয়াদি সে সরকারে নেতৃত্ব দেন বেগম খালেদা জিয়া। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
এরও আগে, ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাসের পর বিপুল জনসমর্থনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে এবং খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৯৬ সালেও দলটি স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
দলটির শেকড় আরও দূর অতীতে—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে দলের আত্মপ্রকাশ এবং পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে BNP ধীরে ধীরে জনসমর্থনের শীর্ষে পৌঁছে যায়।
১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দুই দিন পর তাঁর নাম যুক্ত হয় ভোটার তালিকায়। আশির দশকে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
১৯৯৩ সালে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের সংস্কার উদ্যোগ দিয়ে তিনি সংগঠনের ভেতরে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন। এরপর ধাপে ধাপে ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব কাঁধে নেন। দলের যুগপৎ আন্দোলনে তিনি পরবর্তীতে নেতৃত্বের মুখ হয়ে ওঠেন।
৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলীয় নেতৃত্বে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ৯ জানুয়ারি স্থায়ী কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করে।
বর্তমান নির্বাচনে ব্যাপক অগ্রগতি এবং নেতৃত্বে প্রজন্ম-পরিবর্তন—এই দুই মিলেই বিএনপির সামনে নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। বাকি কয়েকটি আসনের ফল চূড়ান্ত হলে সামগ্রিক অবস্থান স্পষ্ট হবে। তবে বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে দলটি সরকার গঠনের পথে সুস্পষ্ট অগ্রসরতা দেখাচ্ছে।