শিরোনাম :
ভালোবাসা, মর্যাদা ও বৈচিত্র্যের বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা প্রাইড ২০২৬ অপরাধমুক্ত সমাজ গঠন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৪০ বছর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের জয় অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বাজেট দেওয়া হচ্ছে : অর্থমন্ত্রী পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্যে সাক্ষাৎ ‘ফেয়ারওয়েল মাই কনকিউবাইন’ থেকে নতুন আইপি বাণিজ্য-কানে চীনা সিনেমার নতুন অধ্যায় চিপ শিল্পে নতুন সমীকরণ: ‘থাও সূত্র’ ঘিরে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মহলে আলোচনা ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত হবে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন সততা, দায়িত্ববোধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে :মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ

জনগণের ভোটে যারা আসবে, তাদের সঙ্গেই কাজ করবে ওয়াশিংটন: ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৬

ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

 

বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে কৌতূহল ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে, তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র আবারও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশের নির্বাচনে তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থান নেবে না। জনগণের ভোটে যে সরকারই নির্বাচিত হোক না কেন, ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গেই কাজ করবে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বুধবার রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে নির্বাচিত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ অবস্থান তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল বাংলাদেশে তার কর্মপরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যার প্রথম বড় পরিসরের বক্তব্য, যেখানে নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নানা দিক উঠে আসে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন একান্তই এ দেশের জনগণের সার্বভৌম অধিকার। “ফেব্রুয়ারিতে যে সরকারই নির্বাচিত হোক, তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই বাংলাদেশের নির্বাচনে পক্ষ নেবে না”—এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আবারও পরিষ্কার করেন।

বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, এ দেশ তার কাছে নতুন নয়। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ডেস্ক অফিসার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি বিএনপি সরকার, এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন। এখন তিনি কাজ করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন আমি কাছ থেকে দেখেছি।”

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে আশাবাদের সুরও ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষ অবস্থানের ঘোষণার পাশাপাশি ব্রিফিংয়ে উঠে আসে ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলোও। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ গুরুত্ব থাকবে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায়। তার মতে, এই তিনটি খাতেই বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও গভীর করার বড় সুযোগ রয়েছে।

নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদার সামরিক শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর প্রায় ১৫ লাখ ডলার সহায়তা দিয়ে থাকে। সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শুধু নিজেদের প্রযুক্তি নয়, বরং মিত্র দেশগুলোর উপযোগী ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজে দিতে প্রস্তুত—এ কথাও বলেন রাষ্ট্রদূত।

এই প্রসঙ্গেই আসে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির সংবেদনশীল প্রশ্ন—দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে উদ্বিগ্ন, তা লুকাননি ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কিছু ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি রয়েছে, সে বিষয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে অবহিত করবে। বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশ কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে এগোতে পারে—সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রাখবে বলেও তিনি জানান।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, গত আট বছর ধরে রোহিঙ্গাদের জন্য সবচেয়ে বেশি মানবিক সহায়তা দিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন এককভাবে এই বোঝা বহন করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্য অংশীদারদের আরও বড় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে জানান, জীবন রক্ষাকারী সহায়তা—বিশেষ করে রোহিঙ্গা ও স্বাস্থ্য খাতে—যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহত রাখছে।

মার্কিন অনুদান কর্মসূচি ও নতুন ভিসানীতি নিয়েও তিনি ব্যাখ্যা দেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, এসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়নি; এটি বৈশ্বিক পর্যালোচনার অংশ। অবৈধ অভিবাসন, ভিসার মেয়াদ লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তা—এই বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা খুব স্পষ্ট—নির্বাচিত সরকার যেন বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এতে বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই বার্তা একদিকে যেমন নিরপেক্ষতার ঘোষণা, অন্যদিকে তেমনি বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ওয়াশিংটনের কৌশলগত অগ্রাধিকারও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD