বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক রূপান্তরের পথে। এমন সময়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কানাডীয় সাত সদস্যের সংসদীয় প্রতিনিধিদল। দলটির নেতৃত্ব দেন সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান।
সাক্ষাতে উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। ড. ইউনূস বলেন, “আপনারা এমন এক সময় বাংলাদেশে এসেছেন, যখন দেশটি এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—তরুণ নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে। এখন আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠবে।”
রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পেরিয়ে গেছে। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র টেকসই সমাধান। প্রায় ১২ লাখ মানুষ এখানে আশ্রিত, হাজারো শিশু বড় হচ্ছে—কিন্তু তারা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কী। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।”
সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান রোহিঙ্গা বিষয়ে কানাডার অব্যাহত প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, “এটি কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক মানবিক সংকট। বিশ্বের উচিত তাদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করা।” তিনি জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি কানাডার সংসদে বক্তব্য দেবেন।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য সালমা জাহিদ, সামির জুবেরি, হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনালের গ্লোবাল সিইও মাহমুদা খান, হিউম্যান কনসার্ন ইউএসএ-এর সিইও মাসুম মাহবুব, জেস্টাল্ট কমিউনিকেশনসের সিইও আহমদ আতিয়া এবং ইসলামিক রিলিফ কানাডার সিইও উসামা খান।
এই সাক্ষাৎ শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়, মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিল। বাংলাদেশ পুনরায় প্রমাণ করেছে—মানবতা, সহমর্মিতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাই টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের ভিত্তি। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে দেশটি মানবিক কূটনীতির এক নতুন অধ্যায় শুরু করছে।