রাজধানী ঢাকার মুগদা হাসপাতালে দুই সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে করোনা মুক্তির সনদ নিয়ে কাজিপুরে ফিরেছেন পিতা-পুত্র। বৃহস্পতিবার এতথ্য নিশ্চিত করেছেন কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোমেনা পারভীন পারুল।
করোনা মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের মাজনাবাড়ি গ্রামের রেফাজ উদ্দিন ও তার পুত্র মনির হোসেন। বর্তমানে তাদের কাজিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাদের ঢাকা থেকে নিয়ে এলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাদের শুভেচ্ছা জানান।
মনির হোসেন জানান, যখন রোগ ধরা পড়লো তখন থেকে মনে হয় আমরা অন্য কোন গ্রহের প্রাণী। কেউ আমাদের ধারের কাছে আসেনি। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তখন প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু হাসপাতালে ডাক্তার নার্সদের পরিচর্যায় আর কিছু নিয়ম মেনে চলায় ইনশাল্লাহ সুস্থ হয়েছি।
রেফাজ উদ্দিন জানান, আমার অবস্থা বেশি খারাপ ছিলো। হাসপাতালে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থেকেছি। ডাক্তারদের ওষুধ আর কথা মেনে চলে আমরা ভালো হয়েছি। প্রথমে আমি আক্রান্ত হই। আমার খেদমত করায় ছেলেও আক্রান্ত হয়।এই রোগ ঠেকাতে চাইলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা খুব দরকার।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোমেনা পারভীন পারুল জানান, তার এখন করোনা মুক্ত। সাবেক এমপি জয় স্যার আর ইউএনও জাহিদ হাসান সিদ্দিকী স্যারের সহায়তার আমরা তাদের চিকিৎসার জন্যে ঢাকায় পাঠিয়ে ছিলাম। চিকিৎসা শেষে আবার নিয়ে এসেছি। এখন সাতদিনের আইসোলেশন শেষে তাদের বাড়ি ফেরার অনুমতি দেয়া হবে।
গত ২২ এপ্রিল নিজ বাড়িতে সর্দি-জ্বর নিয়ে জামালপুর জেলার সরিষা বাড়ি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান ওই পিতা পুত্র। সেখানকার ডাক্তারদের সন্দেহ হলে তারা ওই দুজনের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। টেস্টে তাদের শরীরে করোনা ধরা পড়ে।