শিরোনাম :
জাতিসংঘে প্রথম দিনে তারেক রহমানের ১০ কর্মসূচিতে ৩৬০ ডিগ্রি কূটনৈতিক কৌশলের প্রতিফলন হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু, চলতি মাসে সর্বোচ্চ চীন-মার্কিন বাণিজ্যের ভিত্তি পারস্পরিক সুবিধা: সিজিটিএন জরিপ সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া তিন আইনে মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা: এইচআরডব্লিউ মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান তারেক রহমান ও এরদোগানের বৈঠক, বাংলাদেশ-তুরস্ক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব নিউইয়র্কে ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে অপরাধের অভিযোগ: মোজাফফরের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শুনানি জাতিসংঘ মহাসচিবের স্বাগত প্রাতরাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা সম্পাদকীয় : কিশোর অপরাধের বিস্তার – নিরাপত্তা কোথায়!

দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সমস্যা: ব্যাহত হচ্ছে সেবা

জার্মানবাংলা২৪ রিপোর্ট :
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী, ২০১৯

রাইসুল আলম রবিন, খুলনা প্রতিনিধি: দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন সিকিউরিটি গার্ডকে ডিউটি করতে হয় বছরের ৩৬৫ দিনই। সুইপারের নয়টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন। দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ড্রাইভার নেই দীর্ঘদিন ধরে।

এ্যাম্বুলেন্সটিও নষ্ট। মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত জনবলেও রয়েছে চরম সংকট। অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও জনবল সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। খুলনা জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক হাজার ৭৪৫টি পদের মধ্যে ৬২৭টি পদই শূন্য। অর্থাৎ এক হাজার ১২৮ জন লোক দিয়ে চলছে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো।

খুলনার সিভিল সার্জন বলছেন, জেলার প্রধান সমস্যাই চিকিৎসক সংকট। এছাড়া ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকটের ফলে হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছেন, এখন সারাদেশে সাত হাজার ডাক্তার নিয়োগের যে প্রক্রিয়া রয়েছে সেটি বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের জন্যও টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে অনুমোদন মিলেছে। শীঘ্রই আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেয়ার জন্য টেন্ডার আহবান করা হবে বলেও সিভিল সার্জন জানান।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, সিভিল সার্জনের দপ্তর, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, টিবি ক্লিনিক, আইডি হাসপাতাল, খালিশপুর আরবান, টুটপাড়া আরবান, স্কুল হেলথ ক্লিনিক এবং জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ সর্বমোট ৭১০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতালসহ সিভিল সার্জনের আওতাধীন নগরীর অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৮৩টি এবং নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬২৭টি পদ শূন্য রয়েছে।

চিকিৎসক সংকটের কথা তুলে ধরে সূত্রটি জানায়, জেলায় জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট(চক্ষু) এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট(চর্ম ও যৌন) নয়টি করে পদ থাকলেও একটি পদও পূরণ নেই। অর্থাৎ ২৭টি পদই শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট(ইএনটি) এবং অর্থোপেডিক্স বিভাগেও নয়টি করে পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন করে। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন।

চিকিৎসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে সহকারী সার্জন/এমও/ইএমও পদে। এ পদে জেলায় সর্বমোট মঞ্জুরিকৃত পদসংখ্যা ৫৪টি। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ৫জন। অর্থাৎ ৪৯টি পদই শূণ্য রয়েছে। জেলায় প্রথম শ্রেণির ৩২৩টি পদের মধ্যে ১১৭টি পূরণ রয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসকসহ ২০৬টি পদই এখন শূন্য। তবে নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র ষ্টাফ নার্স, মিডওয়াইফসহ দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোতে সংকট খুবই কম। দ্বিতীয় শ্রেণির ৩৯৫টি পদের মধ্যে ৩৬৮টিই পূরণ রয়েছে। অর্থাৎ শূন্য রয়েছে মাত্র ২৭টি পদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট স্বাস্থ্য সহকারী। জেলায় ৩৯০টি স্বাস্থ্য সহকারী পদের মধ্যে ২৬১টি পূরণ থাকলেও শূণ্য রয়েছে ১২৯টি। তৃতীয় শ্রেণির সর্বমোট ১১০২টি পদের মধ্যে ৭৮৬টি পূরণ রয়েছে এবং শূন্য রয়েছে ৩১৬টি। আরও সংকট রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেলায়ও। জেলায় ৩১৪টি পদের মধ্যে পূরণ রয়েছে মাত্র ১৫৩টি। অর্থাৎ ১৬১টি পদই শূন্য রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানায়, সাম্প্রতিককালে সরকার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সরাসরি নিয়োগ বন্ধ করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য খুলনাসহ সারাদেশেই কর্মচারী সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খুলনায় ইতোমধ্যে ২১১ জন কর্মচারী নিয়োগের অনুমোদন মিলেছে উল্লেখ করে সিভিল সার্জন ডা: এ এফ এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সংকট দূর হবে।

সদ্য দায়িত্ব পাওয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক একজন চৌকস ব্যক্তি উল্লেখ করে সিভিল সার্জন বলেন, এর মধ্যদিয়ে খুলনাসহ গোটা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে হচ্ছে। বিশেষ করে এসডিজি’র ৩ নম্বর গোল ২০৩০ সালের আগেই বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করা যায়।

জনবল সংকটের চিত্র তুলে ধরে দাকোপের উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, চিকিৎসকের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সংকট পরিচ্ছন্নতাকর্মীর। ৯টি পদের মধ্যে মাত্র দু’জন সুইপার কর্মরত আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সঠিকভাবে পরিচ্ছন্ন রাখা যাচ্ছে না। তাছাড়া তিনটি পদের মধ্যে মাত্র একজন সিকিউরিটি গার্ড দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি পরিচালিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD