শিরোনাম :
সম্পাদকীয় : কিশোর অপরাধের বিস্তার – নিরাপত্তা কোথায়! বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ পর্যটন অবকাঠামো গড়ার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর কার্যকর হচ্ছে ইরানের সব এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাকিস্তান-চীন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র আপত্তি, শাকসগাম উপত্যকা ঘিরে উত্তেজনা বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র অর্থনীতিতে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশ-চীন বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপ জোরদারে অনুবাদের গুরুত্ব সবুজ উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে চীন-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা ‘আইনি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে কেউ নয়’: নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে মামদানি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে তিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে দেবে না দেশের মানুষ ; যশোরে মির্জা ফখরুল

শহিদুল ইসলাম দইচ,যশোর:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫

যশোর টাউন হল মাঠের বিশাল সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনও অবস্থাতেই জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে দেবে না দেশের মানুষ।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে নির্বাচন করতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এদেশের মানুষ সেটি মেনে নেবে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে জেলা বিএনপি বিভিন্ন দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কতা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তিনি হঠাৎ করে একদিন বললেন- এখানে যা যা আলোচনা হয়, তা সব জনগণকে জানিয়ে দেবেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আপনি কী আর বলবেন! আমরা যা যা করছি, সব প্রকাশ্যেই করছি। প্রত্যেকটি কথা আমরা জনগণকে জানাই।
জনগণের ভয় আমাদের দেখাবেন না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জনগণের সঙ্গেই চলি, জনগণ আমাদের সঙ্গেই আছে।ড. মুহম্মদ ইউনূসসহ সব উপদেষ্টাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনাদের যদি কোনও খায়েস থাকে, যদি সরকারে থাকতে চান, ক্ষমতায় থাকতে চান দয়া করে পদত্যাগ করুন। এরপর যে দল করতে চাইছেন, সেটি করুন, নির্বাচন করুন- জনগণের সামনে আসুন। এইটা খুব পরিস্কার কথা।

প্রধানঅতিথি আরও বলেন, জনগণ আমাদের কাছে জানতে চায় নির্বাচন কবে হবে। আমরা বলি, সংস্কারের পরে নির্বাচন। তারা প্রশ্ন করে, সংস্কার কী! দেশের মানুষ কি জানে সংস্কার কী? তারা বোঝে ঠিক দামে চাল কেনা, ডাল কেনা, পাসপোর্টের সঠিক সেবা, আদালতে যেন সঠিক বিচার পায়, পুলিশ যেন তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে। তারা দু’মুঠো ভাত, মোটা কাপড়, শান্তিতে থাকা, মা-বোনেরা যেন নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। কিন্তু সেই অবস্থা এখন বাংলাদেশে নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের এখন সেইদিকে মনোযোগ নেই। তাদের খেয়াল “কুরসি” কীভাবে আটকায়ে রাখতে পারবেন!

তিনি বলেন, আমাদের কোনও কোনও রাজনৈতিক দল বলতে শুরু করেছে আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমি জানি না, কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে তারা এটি বলছেন। আবার বলছেন, এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই। তাহলে পরিবেশ কখন হবে? যখন দেশের মানুষ অস্থির হয়ে যাবে!

প্রতিদিন ঢাকায় আন্দোলন হচ্ছে, সড়ক অবরোধ করে রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে যার দাবি নিয়ে আসবে। কেননা এরআগে তারা সময় বা সুযোগ পায়নি। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, নির্বাচনের মাধ্যমে কোনও সরকার এলে তাদের প্রতিনিধিরা কথাগুলো বলবে, সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। এদের কাছ থেকে কোনও সমাধানের সুযোগ হবে না।

তারেক রহমানকে দেশবাসী চায় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আপনি দেশে আসুন। সমগ্র দেশের মানুষ আপনার দিকে চেয়ে আছে।দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এখন আপনাকে চায়। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়, নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন দেখে।

জনগণের ভোটে আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকটি বন্ধ কল-কারখানা চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যশোরবাসীর আরেক প্রধান সমস্যা ভবদহের জলাবদ্ধতা। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণ হিসেবে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের কারসাজিকে দায়ী করে বলেন, যতো দ্রুত দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, দেশের জন্যে সেটি মঙ্গল। পুলিশ এখনও ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। তিনি উপদেষ্টাদের সুশাসনের প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের সভাপতিত্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা, রাষ্ট্রে পতিত ফ্যাসিবাদের নানা কর্মকাণ্ডের অপচেষ্টা মোকাবেলাসহ বিভিন্ন জনদাবিতে আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, জুলইয়ের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান একক কোনও দল বা গোষ্ঠীর নয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষাণলে দলের ৭ শতাধিক নেতাকর্মী গুম ও অপহরণের শিকার হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছে কয়েক হাজার নেতাকর্মী এবং ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা করেছিল ফ্যাসিবাদী সরকার। আজও সেইসব মামলায় হাজিরা দিতে হচ্ছে নেতাকর্মীদের।

অন্যদের মধ্যে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অমলেন্দু দাস অপু, জাহানার সিদ্দিকী, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আবুল হোসেন আজাদ, ফিরোজা বুলবুল কলি, সাবির নাজমুল মুন্নী, যশোর চেম্বারের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD